দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চিকিৎসকদের দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টার চেষ্টায় আলাদা হলো কুড়িগ্রামের মেরুদণ্ড জোড়া লাগানো শিশু নুহা ও নাভা। গতকাল সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) জটিল এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার পরবর্তী অবস্থায় নুহা ও নাভা ভালো আছে।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিএসএমএমইউতে শিশু দুটিকে দেখতে আসেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী ডা. সামান্ত লাল সেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশু নুহা ও নাভার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের চিকিৎসার সকল খরচ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন। প্রধানমন্ত্রী নুহা ও নাভার সার্বক্ষণিক খবর নিচ্ছেন এবং তাদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
চিকিৎসার শেষ ধাপের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছেন। নুহা ও নাভা ভালো আছে।তারা এখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তাদের রাখা হয়েছে।
জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ মার্চ কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ীর পরিবহন শ্রমিক আলমগীর রানার স্ত্রী নাসরিনের গর্ভ থেকে জন্ম নেয় মেরুদণ্ডে জোড়া লাগানো কন্যা সন্তান নুহা ও নাভা।
ওই বছরের এপ্রিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন ও নিউরো স্পাইন সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেনের অধীনে শিশু দুটিকে ভর্তি করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি তাদের প্রথম ধাপের সফল অস্ত্রোপচার করা হয়।
এদিকে গতকাল সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারে সার্জারি অনুষদের ডিন ও নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে ৩৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ১০০ জন মেডিকেল সদস্যের টিম অংশগ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ জোড়া লাগানো জমজ শিশু দুজনের চিকিৎসার জন্য ১৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে শিশু সার্জারি, প্লাস্টিক ও রিকন্সট্রাকটিভ সার্জারি, ভাসকুলার সার্জারি, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়াসহ সকল বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ নিয়ে এ বোর্ড গঠন করা হয়।
ডিপি/