দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আপনি পুরো বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রাখেন। কোথাও কোন ময়লা নেই। দেখেই চোখ জুড়িয়ে যায়। কিন্তু, রান্নাঘরে ঢুকেই ভিন্ন চিত্র। সেখানে সবকিছু এলোমেলো, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বাড়ির সব থেকে ব্যস্ততম জায়গা এটি। সকালের চা বানানো থেকে রাতের খাবার তৈরি পর্যন্ত অনেক কাজ থাকে এই রান্নাঘর জুড়ে। আর সে জায়গাই যদি এলোমেলো ও অপরিষ্কার থাকে, তাহলে কী করে হবে? এমন এলোমেলো জায়গায় কাজ করাটাও কষ্টকর। তাই রান্নাঘর রাখতে হবে পরিপাটি। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে রান্নাঘর পরিষ্কার ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখবেন-
১. চকচকে ভাব ধরে রাখুন
রান্নাঘরে স্টেইনলেস স্টিলের সিঙ্ক পরিষ্কার করার পরে, কাপড়ে কিছুটা অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল লাগিয়ে তা দিয়ে সিঙ্ক মুছে নিতে পারেন। রান্নাঘরের কোনো পাত্র চকচকে রাখতে চাইলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
কাঠের জিনিসের চকচকে ভাব ধরে রাখতে প্রথমে কিছুটা লবণ ছিটিয়ে নিন। এরপর তাতে অল্প লেবুর রস দিয়ে হালকা ঘষে নিন। রান্নাঘরের প্রতিটি জিনিস যখন পরিষ্কার থাকবে তখন এমনিতেই চকচকে ভাব বজায় থাকবে।
২. আঁশটে গন্ধ দূর করুন
রান্নাঘরে মাছ কাটলে স্বাভাবিকভাবে কিছুটা আঁশটে গন্ধ ছড়ায়। এক্ষেত্রে মাছের আঁশ আর অন্যান্য আবর্জনা পলিথিনে ভরে মুখ বন্ধ করে ময়লার ঝুড়িতে রাখুন। মাছ কাটার সময় পুরানো পত্রিকা বা পলিথিন বিছিয়ে নিতে পারেন। এতে মেঝে নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
মাছ-মাংস কাটার পর রান্নাঘরে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে পানিতে কিছুটা দারুচিনি রেখে ফুটিয়ে নিন। এয়ার ফ্রেশনারও ব্যবহার করতে পারেন।
৩. সিঙ্ক ও বেসিন পরিষ্কার রাখুন
সারাদিন বিভিন্ন জিনিস ধোয়ার পর সিঙ্ক কিংবা বেসিন জ্যাম হয়ে যেতে পারে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। তাই সম্ভব হলে কাজের শেষে সিঙ্কে গরম পানি ঢেলে দিন। তবে, খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে প্লাস্টিকের পাইপের ক্ষতি হতে পারে। এরজন্য সহনীয় পর্যায় পর্যন্ত গরম পানি ব্যবহার করুন। কোনো কারণে পাইপ জ্যাম হয়ে গেলে তা ঠিক হয়ে যাবে। সবশেষে লিকুইড সাবান কিংবা ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে সিঙ্ক পরিষ্কার করে নিন। তেলতেলে ভাব কমানোর জন্য ভিনেগার ছড়িয়ে দিয়ে তাতে লেবুর রস ও কয়েক টুকরো লেবু রেখে দিন। ১০ মিনিট পর ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে সিঙ্কের চকচকে ভাব ফিরে আসবে।
৪. ওভেন পরিষ্কার রাখুন
রান্নার ঝামেলা কমাতে অনেকে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করেন। তবে ব্যবহার শেষে ওভেন ভালোভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। নাহলে অল্প সময়েই ছড়িয়ে থাকা খাবার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। তাই ওভেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। এক বাটি পানিতে ভিনেগার বা লেবুর রস মিশিয়ে ওভেনে এক মিনিট গরম করে নিন। এতে গরম পানির বাষ্প পুরো ওভেনে ছড়িয়ে পড়বে। পরে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই ওভেন পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৫. রান্নাঘরের স্ল্যাব পরিষ্কার করুন
প্রতিদিন রান্না করার সময় মশলা ও তরকারি চুলায় ও স্ল্যাবে পড়ে। এগুলোর দাগ একবার বসে গেলে ওঠানো খুব কষ্টকর। তাছাড়া স্ল্যাব তেল চিটচিটে হয়ে যায়। তাই প্রতিবার রান্না শেষ করে চুলা ও স্ল্যাব পরিষ্কার করে নিন। এর জন্য গরম পানিতে বাসন পরিষ্কার করার লিকুইড জেল ও এক চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। কাপড় ভিজিয়ে চুলার আশেপাশে এবং স্ল্যাব পরিষ্কারের সময়, শুকনো কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন।
৬. টাইলস পরিষ্কার করুন
চুলার আশেপাশের দেয়ালে ও তেল চিটচিটে টাইলস পরিষ্কার করতে বেকিং সোডা ও লেবু বেশ কার্যকরী। উপাদান দুটি একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর এটি টাইলসে থাকা দাগের ওপর দিয়ে কিছুক্ষণ পর পরিষ্কার করে নিন। এতে টাইলসের তৈলাক্ত ভাব আর দাগ সহজেই দূর হবে।
৭. কাজ জমিয়ে রাখবেন না
রান্নাঘরের কোনো কাজ জমিয়ে রাখবেন না। অপরিষ্কার থালাবাসন অন্তত পানি দিয়ে ধুয়ে রাখার চেষ্টা করুন। পরে আপনার সুবিধা মতো সাবান দিয়ে ধুয়ে নেবেন। নাহলে এতে পোকামাকড় হাঁটাচলা করে রোগজীবাণু ছড়াতে পারে। এ ছাড়া রান্নাঘর নোংরা ও এলোমেলোও কম লাগবে। প্রতিদিন সিঙ্ক ও চুলার চারপাশ পরিষ্কারের জন্য অন্তত ২০-২৫ মিনিট বরাদ্দ রাখুন। কারণ, এই জায়গায় কাজ করা হয় বেশি। ফলে সহজেই দাগ-ছোপ পড়ে যায়। তাই প্রতিদিন রান্নাঘর পরিষ্কার করে নেওয়াই ভালো।
এস