দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজবাড়ী জেলার মহাসড়কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ম্যানেজ করে অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিন দিনে ছয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইসহ নিহত হন চারজন। মৃত্যুশয্যায় একাধিক ব্যক্তি। তবুও রাজবাড়ীতে অবৈধ যানবাহন মহাসড়ক দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১ জানুয়ারি দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের মোকবুলের দোকান নামক স্থানে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী আপন দুই ভাই ঘটনাস্থলে নিহত হয়। ২ জানুয়ারি দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের জমিরদার ব্রিজ নামক স্থানে দুপুরের দিকে যাত্রীবাহী বাসচাপায় বাইসাইকেল আরোহী আকবর মল্লিক নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী নিহত হয়। একই স্থানে দুই ঘণ্টা পর যাত্রীবাহী বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী রনি নামে এক যুবক নিহত হয়।
এ সময় তার স্ত্রী শিল্পীকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। তার বর্তমান অবস্থাও ভালো না। অপর এক দুর্ঘটনায় দুই জানুয়ারি সকালে একটি মালবাহী ট্রাক গোয়ালন্দ রেলগেট ব্রিজের উপর উঠে যায়।
৩ জানুয়ারি দুপুরে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মটরসাইকেল-মাক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে তুফান ও বিজয় নামের দুই কিশোর আহত হয়। তাদের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফরিদপুর এবং দৌলতদিয়া ঘাট থেকে কুষ্টিয়া মহাসড়কে তিন চাক্কার অবৈধ নসিমন, করিমন, ভটভটি ও স্যালো মেশিনের ইঞ্জিনচালিত আঞ্চলিক তৈরি বিভিন্ন প্রকার যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সকল অবৈধ যানবাহনগুলো মালবহনসহ যাত্রীদের নিয়ে ভাড়ায় চলাচল করছে। মহাসড়কে অবৈধ যানবাহনের জন্য দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। কিন্ত বাধাবিহীন অবাধে বৈধ সড়কে, অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। অদৃশ্য কারণে নিরব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রিয়া নামের এক নারী বলেন, সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আজ আমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত বালুবাহী ট্রাক চাপায় সুমন ও তার বড় ভাই মমিন মৃত্যুবরণ করে। এই শোক আমরা কিভাবে সহ্য করব। এই দুর্ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
জমিদার ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত আলী বেলু বলেন, ঘর থেকে বের হলে দেখা যায় অবৈধ শত শত যানবাহন। মহাসড়কের কোনো নিয়ম-কানুন না জানলেও মহাসড়ক দিয়ে ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলাচল করছে। তিনি বলেন, জমিদার ব্রিজ নামক এই স্থানে একই দিনে তিনটি দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে এবং একজন মৃত্যু শয্যায় রয়েছে।
এ সময় মান্নান নামের অপর এক ব্যক্তি বলেন, ১ জানুয়ারি বালুবাহী মাটির ট্রাকে মকবুলের দোকানের সামনে ঘটনাস্থলে দুই ভাই নিহত হয়। আবার সকালের দিকে একটি ট্রাক রেল ব্রিজের উপর উঠে যায়। তিনি বলেন, এ সকল দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। তারপরও মহাসড়কে শত শত অবৈধ যানবাহন অবাদে চলাচল করছে।
সৃষ্টি নামের এক নারী বলেন, আমার বান্ধবীর স্বামী বাসচাপায় নিহত হয়েছে। বান্ধবী মৃত্যুশয্যায় রয়েছে। এক নিমিষে পরিবারের সকল আনন্দ শেষ। এই শোক কিভাবে সহ্য করব। তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ কী করেন। তাদের দায়িত্ব কি? তারা থাকতে মহাসড়কে এত অবৈধ যানবাহন কীভাবে চলে।
রুহুল আমীন নামের এক ব্যক্তি বলেন, রনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে অনার্সে পড়ালেখা করতো। পাশাপাশি আমার পাশে কমম্পিউটারের দোকান করত। তিনি বলেন, জীবন শুরু হওয়ার পূর্বে, জীবন শেষ হয়ে গেল রনির। এই অস্বাভাবিক মৃত্যু আমরা প্রত্যাশা করি না। যদি এই মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী থাকে তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। না হলে প্রতিনিয়ত রনির মতো অনেকে অকালে জীবন দিতে হবে।
দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪জন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে রাজবাড়ী আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম জানান, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন বন্ধ করার জন্য প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেবি