দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ দাসকে ল্যাপটপ উপহার দিয়েছেন ঝিকরগাছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। রোববার (১৪ জানুয়ারি) ঝিকরগাছার ইউএনও বিতান কুমার মন্ডল তাকে ল্যাপটপটি দেন।
বিশ্বজিৎ দাস আইবিএর প্রথম সেমিস্টারে পড়েন। দিনে শ্রেণিতে পাঠ গ্রহণ, হোস্টেলে যাতায়াতে ব্যস্ত থাকলেও আঁধার নামলেই তার হুইলচেয়ারের চাকাকে ছুটতে হয় ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। কারণ হুইলচেয়ারের চাকা না ঘুরলে যে থেমে যাবে বিশ্বজিতের স্বপ্ন, অন্ধকারে মলিন হবে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর যাত্রা। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রাজবাড়িয়া গ্রামের শ্যামপদ দাস ও সুষমা দাসের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
জন্ম থেকেই বিশ্বজিতের দুই পা অচল। মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকা। সোজা হয়ে বসতেও পারেন না। মা-বাবা বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে ঝুড়ি-ডালা বোনেন। তবে শারীরিক ও আর্থিক এই প্রতিবন্ধকতা তার সাফল্যের পথে কখনও বাধা হতে পারেনি। তিনি পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এসএসসি পরীক্ষায় শার্শা উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ প্রথম সেমিস্টারে (চার মাস পর) দিতে হবে ১৪ হাজার টাকা। একপর্যায়ে সেখানে বিশ্বজিৎ ফুডপান্ডার মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করার কাজ নেন। এ কাজে সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ফুডপান্ডার খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাতে তাকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এর বিনিময়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে লেখাপড়ার খরচ চলে।
বিশ্বজিৎ বলেন, ল্যাপটপটি দিয়ে আমার লেখাপড়ার কাজের পাশাপাশি কিছু আউটসোর্সিং কাজ করে আয় করতে পারব।
ঝিকরগাছার ইউএনও বিতান কুমার মন্ডল বলেন, ল্যাপটপটি হলে বিশ্বজিতের উপকার হবে জেনেই দেওয়া হলো। আমার অফিসের খরচ বাঁচিয়ে এটা কেনা হয়েছে। কাজটি করতে পেরে ভালো লাগছে।
এইউ