দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভোরের আলো ফোটার আগেই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া, গোমরা, হলদিগ্রাম, শমেশ্চুরাসহ প্রায় ১০টি গ্রামের কৃষক মাঠে নেমে পড়েন তাদের সবজি তুলতে।
এরপর ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকরা সেসব সবজি নিয়ে যায় স্থানীয় হলদিগ্রাম চৌরাস্তা বাজারে। ওই বাজারে আগত জেলার বিভিন্ন স্থানের পাইকাররাও সকাল ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে তাদের কেনাকাটা শেষ করে পরবর্তী খুচরা বাজারে ছুটে চলে সেসব সবজি বিক্রি করতে। এরপর ওই বাজার হয়ে পড়ে জনশূন্য।
জানা গেছে, শেরপুর জেলার মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা ঝিনাইগাতি উপজেলার গারো পাহাড় এলাকার সন্ধ্যাকূড়া, গোমরা, হলদিগ্রাম, শমেশ্চুরাসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ সবজি আবাদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সীমান্তের ওইসব গ্রাম এখন সবজি গ্রাম হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। পাহাড়ি ওইসব গ্রামগুলোতে বছর জুড়েই গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতকালীন প্রচুর সবজির আবাদ হয়। প্রায় ১৫ বছর যাবত সেই সবজির এতোটাই কদর হয় যে একসময় পাইকাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবজি নিয়ে আসতো। পরবর্তীতে সীমান্ত সড়কটি পাকা হওয়ার পর পাইকারদের সুবিধার্থে কৃষকরা স্থানীয় হলদিগ্রাম চৌরাস্তায় জড়ো করতো তাদের সবজি।
সে থেকেই হলদি গ্রাম চৌরাস্তা বাজারটি জমে উঠে। তবে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ওই বাজারের কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়। কৃষকরা ফজরের নামাজ পড়েই তাদের সবজি খেতের সবজি তুলে নিয়ে এসে সকাল ৮টার মধ্যে তা বিক্রি করে আবারও তাদের জমিতে নেমে পড়ে। বাজারে আগত পাইকাররাও জেলার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে টাটকা সবজি বিক্রির জন্য সকাল সকাল তাদের কেনাকাটা শেষ করে সংশ্লিষ্ট বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। এদিকে জেলার বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী টাটকা সবজির জন্য ভোরবেলাতেই ছুটে আসে এ বাজারে। এরপর এখান থেকে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে তা খুচরা বিক্রির জন্য সকাল ৯ থেকে ১০ টার মধ্যেই চলে যায়। স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ঢাকার কাওরান বাজার থেকেও অনেক পাইকার আসেন এ বাজারে। আবার স্থানীয় কিছু পাইকার ও আড়তদার সকাল বেলা সবজি কিনে আড়তে জমা করে এসব সবজি পরিষ্কার করে ক্যারেট বা বক্সে ভরে তা ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়।
এদিকে দীর্ঘদিন থেকে সীমান্ত সড়কের ওপর বাজারটি বসায় যানজটের পাশাপাশি কেনাকাটায় নানা সমস্যার স্মৃষ্টি হলেও আজও এখানে সেড নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাজারের ইজারাদার আব্দুস সালাম।
তিনি জানান, প্রায় ১০ লাখ টাকার বাজার ডেকে নেওয়া হলেও কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীর বাজারের পাশে কিছু খাস জমি উদ্ধার করে বাজারের জন্য বন্ধবস্ত করা হলেও তা সরু এবং সেখানে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় কৃষক ও পাইকাররা সেখানে তাদের পণ্য নিয়ে বসতে পারছে না। তবে রাস্তার পাশেই যদি আরও একটু বেশি জমির উপর বাজার সেড নির্মাণ করা হয় তবে কৃষক ও পাইকারদের জন্য সুবিধা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আল মাসুদ জানায়, ইতিমধ্যে আমরা কিছ খাস জমি উদ্ধার করে বাজার বসাতে বলেছি। তারপরও সেখানে যদি কোনো সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে বিষয়টি আমি দেখব।
জেবি