দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেছেন, ‘আমি ভাঙলেও মচকাই না। আমারে নিয়ে যত নোংরামি করবেন আমি দিন দিন ততই শক্তিশালী হব।’
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত বেসরকারি এক টেলিভিশনের টকশোতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দর্শকের প্রশ্নের পর ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রতিনিধি ফাতিমা তাসনিম জুমা উত্তর দেওয়া শুরু করেন। এসময় অন্যান্য প্যানেলের অতিথি বক্তা ও তাদের সমর্থকরা তার বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করলে তাদের মাঝে উচ্চবাক্য বিনিময় হয়। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। এমনকি তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগও করেছেন তিনি।
রোববার (৩১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে জুমা লেখেন, আপনারা কোনো মাইয়ার লগে না পারলেই তার চরিত্র হননে লাগেন। আমার ন্যুড সবচেয়ে পারফেক্টলি এআই ডিটেকশনলেস বানালেও কাজ হবে না ভাই, কেউ বিশ্বাস করবে না। আমি ভেঙে গেলেও মচকাই না। আমারে নিয়ে যত নোংরামি করবেন আমি দিন দিন ততো শক্তিশালী হবো।
ফেসবুকে জুমা লেখেন, গতকাল আমি যখনই আমার কথা বলা শুরু কছিলাম ছাত্রদলের আরিফ ভাইয়ের সাথে আসা লোকেরা এবং বামদের সাথে আসা লোকেরা বাইরে থেকে 'তুমিও জানো আমিও জানি' স্লোগানসহ আরো নানাকিছু বলে চিল্লাচিল্লি করে আমাকে কথা বলতেই দিচ্ছিলো না। সাথে সবাই মিলে একের পর এক বিরক্তিকর প্রশ্ন আর বা..ছা.. যুক্তি বলে আমাকে কথা বলতে না দেওয়াই ছিল বাকিদের উদ্দেশ্য যাতে আমারে কুক করা গেছে বলে সিগমা সাজতে পারে। বাধ্য হয়ে আমাকে চিল্লাচিল্লি করা লেগেছে।
তিনি বলেন, পরে চাকমা ইস্যুটা এনেছে। এই কথা আসছে ছাত্রদলের প্রার্থীর কথার ভিত্তিতে, সে স্টেক নাই বলার পর বাংলাদেশে বাকি যারা বিরোধিতা করছে তাদের স্টেক আছে কিনা এই প্রশ্ন থেকে। যাই হোক, ভদ্রতা কেউই দেখায় নাই। এর প্রেক্ষিতে কাল রাত থেকে আমার সাথে যা হচ্ছে তা নিয়ে আমি এখন চাইলেই সিম্প্যাথি কার্ড খেলতে পারি। একটা মানুষের সহ্যসীমা আছে। কিন্তু এটা আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য না।
নিজেকে নিয়ে অপপ্রচার ও বুলিংয়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জুমা বলেন, আমার সাথে যুক্তি তর্কে আসেন। ডিবেটে আসেন। তা না কইরা আমার ন্যুড বানানোয় যারা লেগে পড়েছেন, তাদের সাথে আর কী ফাইট দিবো? মানে আপনারা কোনো মাইয়ার লগে না পারলেই তার চরিত্র হননে লাগেন। আমার ন্যুড সবচেয়ে পারফেক্টলি এআই ডিটেকশনলেস বানাইলেও কাজ হবেনা ভাই, কেউ বিশ্বাস করবেনা। আমি ভেঙে গেলেও মচকাই না। আমারে নিয়া যত নোংরামি করবেন আমি দিন দিন ততো শক্তিশালী হবো।
তিনি আরও বলেন, ডাকসু না জিতলেও আমার কিছু যায় আসেনা। ডাকসুর আগে থেকে আমি জাতীয় রাজনীতিতে রিলেভ্যান্ট। ডাকসুতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে আসছিলাম সেটা আমি গতকাল করে ফেলছি। মুজিববাদী ন্যারেটিভ যে চলবেনা সেটা বুইঝা সবার গান্ড ফাইটা যাইতেছে দেখে আমি নিজেরে নিয়া প্রাউড।
সবশেষে জুমা বলেন, এসব নোংরামির বিচার আমি শুধু আল্লাহরে দিলাম। আমি সবকিছু জাইনাই মাঠে নামসি। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ আমাকে এই জায়গায় এই ফাইট দেওয়ার জন্য বাঁচাইয়া রাখছেন। হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন বট তলায় এক বেসরকারি টিভি চ্যানেল একটি ওপেন টকশোর আয়োজন করেন। যেখানে ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদের রাখা হয়। এসময় জুমাকে এক দর্শক প্রশ্ন করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে সমুন্নত রাখতে আপনাদের অবস্থান কী হবে?’ পরে জুমা এর জবাব দিতে গেলে অন্যান্য বক্তারা ভেটো দেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। এরপর শুরু হয় বাকযুদ্ধ ও উচ্চবাক্য বিনিময়।
আরএ