দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পবিত্র রমজান মাসে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও বুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর ওপর রোজা রাখা ফরজ বলে ইসলামি শরিয়তে নির্ধারিত হয়েছে। কুরআনের আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পার।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩)
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে রোজা শুধু উম্মতে মুহাম্মদীর জন্যই নয়, পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপরও ফরজ ছিল। একই সূরার ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে।
হাদিসে রোজা শুরুর ও শেষ করার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, রমজানের চাঁদ দেখার পর রোজা শুরু করতে এবং চাঁদ দেখার পর তা শেষ করতে; আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ৩০ দিন পূর্ণ করতে। (সুনানে তিরমিজি: ৬৮৮)
সাহরী ও ইফতারের গুরুত্ব
হাদিসে সাহরী খাওয়াকে বরকতময় বলা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, তোমরা সাহরী খাও; কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে। (সুনানে নাসায়ী: ২১৪৭)
এছাড়া রোজাদারকে ইফতার করানোর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। যাইদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছু কমবে না। (সুনানে তিরমিজি: ৮০৭)
রমজান কুরআন নাজিলের মাস
ইসলামি সূত্রগুলো বলছে, রমজান মাসেই পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। সূরা আল-বাকারাহ-এর ১৮৫ নম্বর আয়াতে কুরআনকে মানবজাতির জন্য হেদায়াত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ কারণে রমজানে কুরআন তেলাওয়াতের পরিমাণ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে দান-সদকার গুরুত্বও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রমজানে মহানবী (সা.) অন্য সময়ের তুলনায় অধিক দানশীল হয়ে উঠতেন এবং ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তার দানশীলতা আরও বৃদ্ধি পেত। (সহীহ বুখারী: ১৯০২)
বর্জনীয় বিষয়: গীবত ও মিথ্যা
রমজানে গীবত ও মিথ্যা থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কুরআনে গীবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সূরা আল-হুজুরাত: ১২)
হাদিসে গিবতের সংজ্ঞা দিয়ে বলা হয়েছে, কারও অগোচরে তার এমন দোষ আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করবে। আর মিথ্যা সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল ত্যাগ করে না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহীহ বুখারী: ১৯০৩)
আলেমরা বলছেন, রোজার মূল উদ্দেশ্য শুধু উপবাস নয়; বরং আত্মসংযম, তাকওয়া অর্জন এবং নৈতিক শুদ্ধতা লাভ। রমজানের বরকতপূর্ণ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ইবাদত-বন্দেগি, কুরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা ও নৈতিক আচরণে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জে আই