দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শবে মেরাজ কি?
রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতকে সবে মিরাজ বলা হয় । শব অর্থ রাত মেরাজ অর্থ উর্ধ্বগমন। পৃথীবির ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ রাতে রাসূল স. মসজিদে হারাম থেকে বায়তুল মাক্দাস হয়ে উর্ধ্ব আকাশে গমণ করেন যা প্রথম আসমান থেকে সপ্তম আসমান হয়ে সিদরাতুল মুনতাহা অতঃপর মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ শেষে অনেক অদৃশ্য বিষয়ের স্বাক্ষ্য হয়ে আবার পৃথীবিতে ফিরে আসেন। যা বর্তমান পৃথীবির বৈজ্ঞানিক কর্মকান্ডের উৎকর্ষতায় এখনো পরিপূর্ণ উপলব্ধি করতে পারেনি। যদিও বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় মানুষ চন্দ্রযান ও সৌরজান পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। যার মাধ্যমে মোসলমানরা যে অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস রাখে যেমন জান্নাত, জাহান্নাম, আযাব, শাস্তি এগুলো আল্লাহর কুদরতে রাসূল (স.) স্বচক্ষে দেখে এসেছেন। এবং এ সফরে রাসূল (স.) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য উপহার স্বরূপ কিছু নির্দেশনা নিয়ে আসেন, যার মধ্যমে মানুষ তার রবের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে।
মেরাজ কখন সংঘঠিত হয়:
মেরাজ সংগঠিত হয় নবুয়তের ১১ তম বছর ২৭ই রজব, তখন রাসূল (স.) এর বয়স ছিল ৫১ বছর। যা স্বশরিরে ও জাগ্রত অবস্থায় সংঘঠিত হয় । পৃথীবি থেকে উর্ধ্বগমনের এ ঘটনাটি ইসলামকে সাইনটিফিক ভাবধারায় একিভূত করেছে।
কোরআনে বর্ণিত : পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তার বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকতময় করে দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।(সূরা -১৭, বনি-ইসরাঈল আয়াত নং-১)
সূরা নাজমে আল্লাহ তায়ালা মেরাজে সত্যতা বর্ণনা করে বলেন:
“তোমাদের সাথি (মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিপথগামী হননি এবং বিভ্রান্ত হননি। আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়। তাকে শিক্ষা দিয়েছে প্রবল শক্তিধর (জিবরাঈল), এমত অবস্থায় সে উর্ধ্ব দিগন্তে। অতঃপর সে নিকটবর্তী হলো, অতঃপর আরো কাছে এলো। তখন সে নৈকট্য ছিল দু’ধনুকের পরিমাণ, অথবা তারও কম। অতঃপর তিনি তার বান্দার প্রতি যা ওহী করার ওহী করলেন। সে যা দেখেছে অন্তকরণ সে সম্পর্কে মিথ্যা বলেনি। সে যা দেখেছে সে সম্পর্কে তোমরা কি তার সাথে বিতর্ক করবে? আর অবশ্যই দেখেছেন তিনি তাকে দ্বিতীয় অবতরণ স্থলে (জিবরাঈল আ. কে)। সিদরাতিল মুনতাহার কাছে; তার নিকটে জান্নাতুল মাওয়া। আর যখন ঢেকে গেলো সিদরা যা ঢেকেছে, না দৃষ্টিভ্রম হয়েছে আর না তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন; নিশ্চয় তিনি তার রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ দেখেছেন। (সূরা আন-নাজম, আয়াত নং ১-১৮)।
মি’রাজে রাসূল (স.) যা যা দেখলেন
প্রথম আসমানে হযরত আদম (আ.) সাথে দেখা হয়, দ্বিতীয় আসমানে হযরত ইয়াহইয়া(আ.) এর সাথে, তৃতীয় আসমানে হযরত ইউসুফ (আ.) এর সাথে, চতুর্থ আসমানে হযরত ইদ্রিস (আ.) এর সাথে, পঞ্চম আসমানে হযরত হারুন (আ.) এর সাথে, ষষ্ঠ আসমানে হযরত মূসা (আ.) এর সাথে, সপ্তম আসমানে হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর সাথে দেখা হয়ে যাদের প্রত্যেকের সাথে রাসুল (স.) এর অভিবাদন ও কুশল বিনিময় হয়। এর পর তিনি বায়তুল মামুরে গেলেন যেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা আসেন(তাওয়াফ করেন) ও প্রস্থান করেন, যার প্রস্থান করেন তার দ্বিতীয় বার প্রবেশের সুযোগ পান না। মিরাজে রাসূল (স.) জান্নাত ও জাহান্নাম ও দুনিয়ায় বিভিন্ন পাপের শাস্তির ধরণ দেখে আসেন।হাদিসের গ্রন্থ বুখারি শরিফেরে ৩৪৯ হাদিসে মি’রাজের ঘটনাটি বিস্তারিত বর্ণনা করা আছে।
(এছাড়াও অসংখ্য হাদিস গ্রন্থে মি’রাজ সম্পর্কিত হাদিস রয়েছে যেমন: তিরমিজি: ৩১৩১, মুসলিম শরিফ: ২৭৯, মুসনাদে আহমাদ: ৫২৮)
মি’রাজে রাসুল (সা.) এর সবচাইতে বড় প্রাপ্তি ছিল মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করা। যার জন্যই আল্লাহ তা’য়ালা তার প্রিয় রাসুলকে ডেকে পাঠান। শবে মি’রাজে আল্লাহর নির্দেশনাবলি
প্রথমত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (যার মাধ্যমে বান্দা তার রবের নিকটবর্তী হতে পারে)
দ্বিতীয়ত সূরা বানি-ইসরাইলে বর্ণিত বিশেষ নির্দেশনা ( একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, তার সাথে কারো শরিক না করা, পিতা-মাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, নিকট আত্মীয়দের অধিকার প্রদান করা, এতিম ও মুসাফিরের অধিকার ও হক প্রদান করা, অপচয় করো না আপচয়কারী শয়তানের ভাই, কৃপণতা করবে না, সন্তানদের হত্যা করবে না, ব্যাভিচার করা যাবে না, মানব হত্যা করবে না, এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করবে না, প্রতিশ্রুতি পূর্ন কর, মাপে পূর্ণ প্রদান কর, পৃথীবিতে দম্ভভরে চলো না, এ সবই মন্দ তোমার রবের কাছে অপছন্দ। (সুরা বনি ইসরাইল ও ইসরা)।
লেখক
মো. সাইফুল ইসলাম নোমান
আরবি প্রভাষক
হাজী মরণ আলী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা
নাখালপাড়া, তেজগাও, ঢাকা।