দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাসের আবাসিকভাবে বসবাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি এই বিশ্রামাগারটি দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি অতিথি ও ধর্মীয় মেহমানদের আবাসনের জন্য ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে ওসির দখলে থাকায় সাধারণ মানুষ সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় যোগদান করেন ওসি সুজন বিশ্বাস। যোগদানের পর থানার ভেতরের সরকারি বাসভবনে না উঠে তিনি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষে বসবাস শুরু করেন। এ সময় ডাকবাংলোর প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে শুক্রবার (৮ মে) ভারতের জৌনপুর থেকে ধর্মীয় প্রচারণার উদ্দেশ্যে রাজাপুরে আসেন তিনজন প্রখ্যাত আলেম। স্থানীয়দের দাবি, যুগ যুগ ধরে এসব বিদেশি ধর্মীয় মেহমান সরকারি নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে এই ডাকবাংলোতেই অবস্থান করে আসছেন। কিন্তু এবার ওসির অবস্থানের কারণে তাদের জন্য সেখানে আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। একাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতি বছরই ভারতের জৌনপুরের আলেমরা ঝালকাঠি এলাকায় আসেন এবং সর্বোচ্চ দুই দিন এই ডাকবাংলোতে থাকেন।
কিন্তু এবার ওসি সাহেব সেখানে বসবাস করায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিব্রতকর।” ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মো. মানিক তালুকদার বলেন, “ভবনটি কিছুদিন ফাঁকা ছিল।
পরে ওসি সাহেব সেখানে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি প্রধান কেচিগেটে তালা দিয়ে রাখেন।” তবে বিষয়টিকে সাময়িক ব্যবস্থা বলে উল্লেখ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী। তিনি বলেন, “ডাকবাংলোটি জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত হলেও উপজেলা প্রশাসন তদারকি করে থাকে। থানার ভেতরে ওসির বাসভবনে কিছু সংস্কার কাজ চলছে।
কাজ শেষ হলে তিনি সেখানেই চলে যাবেন।” অভিযোগের বিষয়ে রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, “থানার ভেতরে ওসিদের থাকার মতো মানসম্মত আবাসিক ভবন নেই। আগের ওসিরা একটি ব্যারাকে থাকতেন, যা এখন পরিত্যক্ত ও বসবাসের অনুপযোগী। তাই বাধ্য হয়েই আমি ডাকবাংলোতে উঠেছি।”
-এমএম