দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে, যারা নিজেদেরকে খুব শক্তিশালী মনে করে। তাদের অত্যাচারে প্রতিবেশী অসহায় হয়ে পরে। অনেকে শক্তির প্রভাব খাটিয়ে অন্যজনের জায়গা জমি ও বাড়ি ঘর দখল করে থাকেন। কিন্তু তারা জানে না আল্লাহ চাইলে যেকোনো ভাবে শাস্তি দিতে পারেন।
হযরত নূহ (আ.) এর বংশধরদের মধ্যে আদ নামক এক ক্ষমতাশালী বাদশাহ ছিলেন। তার সমকক্ষ শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি সে যুগে অন্য আর কেউই ছিল না। তারা ছিল খুব অহংকারী ও তাদের অন্তর ছিল খুব কঠিন। তারা দুর্বল ও নিরীহ মানুষদেরকে খুব অত্যাচার করতো। বাদশাহ আদের নামানুসারে, এরা কওমে আদ বা আদ বংশীয় লোক নামে ইতিহাসে পরিচিতি।
সাহস ও শক্তির গৌরবে তারা আল্লাহ ও নবীকে ভুলে গিয়েছিলেন। তারা সৎকাজ ও ভালো কাজ কখনো করতো না, বরং শয়তানের কু পরামর্শে দেবদেবীর মূর্তি পূজা করতো। আদ কওমের যখন এ অবস্থা প্রবল আকার ধারণ করল, তখন তাদেরকে হেদায়েত করার উদ্দেশ্য আল্লাহ পাক কওমে আদের মধ্য হতেই হুদ নামক এক ব্যক্তিকে নবীরূপে প্রেরণ করলেন।
আল্লাহ বললেন, আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হুদকে নবী রূপে পাঠিয়েছিলাম। সে বলল, হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন মাবূদ নেই, তোমরা কি সাবধান হবেনা? (সুরা আল আরাফ, আয়াত ৬৫)
হযরত হুদ (আলাইহিস সালাম) আদ জাতিদেরকে দেব দেবীর মূর্তি পূজা ছেড়ে এক আল্লাহর ইবাদত করতে বললেন। কিন্তু তাকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দিলেন। তারপরেও শক্তিশালী আদ জাতিকে হযরত হুদ (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর সত্য ধর্মের প্রতি আহ্বান করলেন এবং আল্লাহর নিয়ামত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য বললেন। কিন্তু তারা শুনলেন না। মাত্র সত্তরজন লোককে তিনি কোনরূপে হেদায়েত করতে সক্ষম হলেন। তারাও কাফেরদের ভয়ে গোপনে আল্লাহর ইবাদত করত, প্রকাশ্যে ইবাদত করতে সাহস পেত না। তারপরেও হযরত হুদ (আলাইহিস সালাম) আদ জাতিদেরকে ধর্মের পথে আহ্বান করেছিলেন।
হযরত হুদ (আলাইহিস সালাম) এদের সম্পর্কে একেবারে নিরাশ হয়ে আল্লাহর দরবারে এরূপ দোয়া করলেন, হে মাবুদ! এরা আমার কথা শুনছে না। বরং আমাকে প্রাণে মরার ভয় দেখাচ্ছে। আমার এমন শক্তিও নেই যে, আমি তাদের সাথে পেরে উঠব। তারা অনেক শক্তিশালী। আপনি আমাকে তাদের হাত হতে রক্ষা করুন।
হযরত হুদ (আলাইহিস সালাম) তার সত্তরজন মুমিন উম্মত নিয়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার সময় আরো একবার কাফেরদেরকে সত্যধর্মে প্রতি আহ্বান করে বললেন, এখনও তোমরা আমার কথা মেনে নাও। না হলে কিন্তু অচিরেই তোমরা আল্লাহর গজবে ধ্বংস হয়ে যাবে। আদ জাতি হযরত হুদ (আলাইহিস সালাম) এর কথা শুনে তাকে ঠাট্টা ও বিদ্রূপ করল।
যার ফলে আল্লাহ তায়ালা তাদের দেশে একাধারে তিন বছর বৃষ্টিপাত বন্ধ রাখলেন। দেশে কোন ফসলাদি জন্মাল না। ফলে সারাদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। গজব শুরু হওয়ার আগে হযরত হুদ (আলাইহিস সালাম) তার উম্মতগণকে নিয়ে তাড়াতাড়ি সে স্থান ত্যাগ করলেন।
আল্লাহ বলেন, অতঃপর তাকে (হুদকে) এবং তার সঙ্গী সাথীদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করলাম, আর যারা আমার নিদর্শকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং যারা ঈমানদার ছিল না তাদের মূলোৎপাটন করলাম। (সুরা আল আরাফ, আয়াত: ৭২)
কিছুক্ষণ পরে ভয়াবহ গজব শুরু হলো। মুহূর্তের মধ্যে এমন প্রবল বেগে তুফান শুরু হল যে, দাম্ভিক আদ কওমের লোকদের সকল দাঁত মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। তাদের ঘর বাড়ি প্রথম ঝাপটায়ই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। দ্বিতীয়বারে তাদের আশ্রয় জায়গা পাহাড়ের গুহাসমূহে বায়ু প্রবেশ করে তাদের সকলকে বাইরে উড়িয়ে এনে এমনভাবে আছাড় মারল যে, সাত লক্ষ মানুষের দেহগুলো যেন উৎপাটিত খেজুর গাছের মত নিম্প্রাণদেহে ভূমিতলে পড়ে রইল।
প্রবল বায়ুর তাণ্ডবে ধূলা মাটি উড়িয়ে উক্ত লাশগুলোর উপরে এমনভাবে নিয়ে আসল যে, তাতে তারা চাপা পড়ে রইল। আল্লাহ বলেন, আর আদ সম্প্রদায় তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড ঝঞ্ঝবায়ু দ্বারা।(সুরা আল হাক্কাহ, আয়াত: ৬)
এস