দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শয়তান মানুষের চিরশত্রু। যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের সতর্ক করেছেন। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মানুষ, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য; অতএব দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদের কিছুতেই প্রতারিত না করে; আর বড় প্রতারক (শয়তান) যেন তোমাদের আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারণা না করে। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব, তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য করো। সে তার দলকে শুধু এ জন্যই ডাকে, যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়। (সুরা: ফাতির, আয়াত : ৫-৬)
শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করবে বলে মহান আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করে এসেছে। আর মহান আল্লাহ তার রসুলের মাধ্যমে এমন কিছু দোয়া ও আমল শিখিয়ে দিয়েছেন যা আমাদের শয়তানের সব ধরনের অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবে।
মহান আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে সরানো ও ইবাদত নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টায় শয়তান কমতি নেই। এমনকি ঘরে প্রবেশ করেও বিভিন্ন রকম অনিষ্ট সাধন করে। তবে পবিত্র কোরআনে এমন দুটি আয়াত রয়েছে, যা পাঠ করে শয়তানের প্রভাব থেকে ঘরকে রক্ষা করতে পারবেন। তাই নিয়মিত পবিত্র কোরআনের এ দুটি আয়াত তেলাওয়াত করুন। তার আগে চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। বিভিন্ন হাদিসে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াতকে সুরা ফাতেহার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সুরা ফাতেহা এবং সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত মহান আল্লাহর এমন নুর, যা এর আগে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। (মুসলিম, হাদিস: ৮০৬)
হজরত আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পড়বে তার জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে। (বুখারি, হাদিস: ৫০০৯)
অর্থাৎ রাতে সব বিপদ-আপদ ও শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এ দুটি আয়াত পাঠ করাই যথেষ্ট।
হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ আসমান-জমিন সৃষ্টির দু-হাজার বছর আগে একটি কিতাব লিখেছেন। সে কিতাব থেকে দুটি আয়াত নাজিল করে তিনি সুরা বাকারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে এ দুটি আয়াত তেলাওয়াত করা হয়; শয়তান ওই ঘরের কাছেও আসতে পারে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৮২)
উচ্চারণ: আমানার রাসুলু বিমা উংঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মুমিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহ। লা-নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ। ওয়া কালু সামিনা ওয়া আত্বানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন-নাসীনা আও আখত্বনা রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরাং কামা হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিং কাবলিনা রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাকাতালানা বিহ। ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।
অর্থ: রসুল তার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তার ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তার রসুলগণের ওপর, আমরা তার রসুলগণের মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে ভালো যা করেছে তার সওয়াব পাবে এবং মন্দকর্মের জন্য সে নিজেই নিগ্রহ ভোগ করবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন, আর আমাদের ওপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
এস