দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুরআনে কারীমের প্রতিটি সূরা, প্রতিটি আয়াত, এমনকি প্রতিটি হরফই নেকী ও সওয়াবের খাজানা। আল্লাহ তাআলার কালাম হিসাবে সবই অতুলনীয় মর্যাদার অধিকারী। তবে আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো সূরা ও আয়াতের বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা ঘোষণা করেছেন। যাতে বান্দা বেশি থেকে বেশি ফজিলত ও সওয়াব লাভ করতে পারে।
এই বিশেষ ফজিলতের অধিকারী সূরাসমূহের অন্যতম হল সূরা ইখলাছ। হাদীস শরীফে এই সূরার অনেক ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।
হাদীস শরীফে এসেছে, সূরা ইখলাছ কুরআন মাজীদের তিন ভাগের এক ভাগের সমান মর্যাদা রাখে। যে ব্যক্তি একবার সূরা ইখলাছ তিলাওয়াত করবে সে কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশের সওয়াব লাভ করবে। বিষয়টি বহু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এখানে কয়েকটি হাদীস পেশ করা হল।
আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত-
এক ব্যক্তি জনৈক সাহাবীকে দেখলেন, বারবার ‘কুল হুয়া আল্লাহু আহাদ’ সূরাটি পড়ছেন। সকাল হলে ঐ ব্যক্তি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে বিষয়টি পেশ করলেন। -লোকটি হয়তো ভেবেছে, এ ছোট একটি সূরা বারংবার পড়তে থাকা তেমন সওয়াবের কাজ নয়- তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! সূরা ইখলাছ কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০১৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪৬১; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ৯৯৫)
একবার রাসূল (সা.)–কে এমন একজন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি প্রতি নামাজে সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করতেন। রাসূল (সা.) লোকটিকে গিয়ে সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করতে বললেন, কেন তিনি এত ঘন ঘন তিলাওয়াত করেন? লোকটি উত্তরে বলল, ‘কারণ এটি সিরাতুর রহমান। এতে পরম করুণাময়ের বর্ণনা আছে এবং আমি পরম করুণাময়ের বর্ণনা পাঠ করতে ভালোবাসি।’ রাসূল (সা.) বললেন, ‘ফিরে গিয়ে লোকটিকে বলুন, এই সুরার প্রতি ভালোবাসার কারণে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।’ (বুখারি, মুসলিম)
আরেকটি হাদিসে আছে একবার রাসূল (সা.) শুনলেন এক লোক সুরা ইখলাস পড়ছেন। তিনি বললেন, তার জন্য এটা আবশ্যক হয়ে গেছে। কথাটা তিনি তিনবার বললেন। সাহাবিরা তখন জানতে চাইলেন, তিনি কী বলছেন। তিনি বললেন, যে লোকটা তিলাওয়াত করছে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস জানে এবং নিজেকে এতে সোপর্দ করে, তার জন্য জান্নাত ফরজ হয়ে যায়।
সুরা ইখলাসে তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণার পর আল্লাহর সন্তানসন্ততি আছে বলে যে ভ্রান্ত ধারণা করা হয়, তার প্রতিবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ সব অভাবের অতীত এবং তার কোনো তুলনা নেই। এই সুরায় আল্লাহর অস্তিত্ব ও সত্তার অনুপম বিবরণ রয়েছে।
এটি কোরআনের অন্যতম ছোট সুরা হলেও একে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান বলা হয়ে থাকে। ইখলাস অর্থ গভীর অনুরাগ, একনিষ্ঠতা, নিরেট বিশ্বাস ও খাঁটি আনুগত্য। শিরক থেকে মুক্ত হয়ে তাওহীদ বা এক আল্লাহর ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলা হয়।
বলো, তিনি এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।
এস