দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের একটি শরণার্থী ক্লিনিকের সামনে তাদের ফেলে যায় পাচারকারী চক্র। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার অটোরিকশাচালক জনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে বিমানবন্দর এলাকায় এক দালালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ভালো কাজের প্রলোভনে তাকে কক্সবাজারের টেকনাফে নেওয়া হয়। পরে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে রাতের আঁধারে জোর করে নৌকায় তোলা হয়।
প্রায় ১০ দিনের সমুদ্রযাত্রা শেষে তাকে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখানে দুর্গম এলাকায় একটি বন্দিশিবিরে প্রায় চার মাস আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। জনির দিনমজুর বাবা মো. ফুরকান টাকা দিতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরে অবৈধ পথে জনিকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে আরও প্রায় দুই মাস আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে পাচারের শিকার হন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মো. মোশাররফ হোসেন।
মালয়েশিয়ার বন্দিশিবিরে আটক অন্যরা টাকা দিয়ে একে একে মুক্তি পেলেও জনি ও মো. মোশাররফ হোসেনের পরিবার টাকা দিতে না পারায় তারা সেখানে আটকে ছিলেন। পরে গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় তাদের পেনাং রাজ্যের একটি শরণার্থী ক্লিনিকের সামনে ফেলে রেখে যায় পাচারকারী চক্র।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে দূতাবাসের অনুমতিপত্রের মাধ্যমে স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে তাদের রাখা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দূতাবাসের সার্বিক সহায়তায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তারা দেশে ফিরবেন বলে জানানো হয়েছে।
থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্ত ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের পাচারের অভিযোগ রয়েছে। দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো হয় বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।
সঠিক তথ্যের অভাবে গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক মানুষ দালালদের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেক পরিবার ভিটেমাটি বিক্রি করে বা ঋণ নিয়ে দালালদের টাকা দেওয়ার পর স্বজনের সন্ধান না পেয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে।
মানবপাচার বন্ধে সীমান্তে নজরদারি জোরদার, পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএম/