দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সৈয়দপুর শামসিয়া সমিতির আয়োজনে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হলো গবেষক ও লেখক সৈয়দ হাবিবুর রহমান সম্পাদিত গ্রন্থ ‘শিকড়ে সন্ধানে’ এর বর্ণাঢ্য মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব। পূর্বপুরুষের ইতিহাস, উত্তরাধিকার এবং সাংস্কৃতিক শেকড়ের পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ জিল্লুল হক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন কবি আহমদ ময়েজ।
উদ্বোধনী পর্বে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সমিতির উপদেষ্টা সৈয়দ শহীদুল ইসলাম। পরে সমিতির পক্ষ থেকে লেখককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা উপহার দেওয়া হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাহিত্যবোদ্ধা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম আনা। তিনি বলেন, ‘শিকড়ে সন্ধানে’ কেবল একটি ইতিহাসগ্রন্থ নয়, বরং আত্মপরিচয়ের এক বলিষ্ঠ দলিল। শেকড়ের সন্ধান মানে আত্মার সন্ধান – কারণ শিকড় হারিয়ে ফেললে অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যায়।
প্রবন্ধ আলোচনায় অংশ নিয়ে সমিতির সাবেক সভাপতি আহমদ কুতুব বলেন, এই গ্রন্থ রক্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। পূর্বপুরুষদের জীবনচিত্র আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথ দেখায়। আমরা যেন তাদের বিস্মৃত না হই।
বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা এ কে এম আবু তাহের চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ গবেষণার ফসল এই গ্রন্থ আমাদের অতীত জানার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও দেবে। বিভিন্ন প্রজন্মের মাঝে এই বই সংযোগ সেতু রচনা করবে।
সিনিয়র সাংবাদিক ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা লেখকের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে সৈয়দপুরকে কেন্দ্র করে একটি লিখিত ডাটাবেজ তৈরির আহ্বান জানান।
অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমদ বলেন, দ্বাদশ শতকে শাহজালাল (রহ.) এর আগমন সৈয়দপুর অঞ্চলকে শিক্ষা ও আধ্যাত্মিকতায় সমৃদ্ধ করেছিল। ইসলাম আধুনিক শিক্ষার দিগন্ত খুলে দিয়েছিল এই অলিদের মাধ্যমে।
বাংলা একাডেমি সৈয়দ ওয়ালি উল্লাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক ও লেখক ফারুক আহমদ বলেন, সৈয়দ হাবিবুর রহমান বইয়ের ভূমিকায় যে সাহস দেখিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। শাহজালালের আগমন ও কুনিয়া থেকে যাত্রার বিষয়টি নতুন আলোচনার জন্ম দেবে। বিতর্ক হোক, তর্ক হোক – সেই আলোচনার মাধ্যমে ইতিহাস আরও পরিষ্কার হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— সৈয়দ খালিদ মিয়া অলিদ, সৈয়দ আনাস পাশা, সৈয়দ দুলাল, সৈয়দ রফিকুল হক ধলা, আবু সুফিয়ান, আব্দুল আহাদ, আলাউর রহমান, সৈয়দ আসাদ হক, সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ শামীম আহমদ, সৈয়দ সফর আলী, সৈয়দ হিলাল সাইফ, মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ, শেখ হাফিজ মোস্তাক আহমদ, মোহাম্মদ সিজিল মিয়া, সৈয়দ তোফায়েল আহমেদ, সৈয়দ জামিল আহমদ, সৈয়দ ইয়াসিন শাহিন, সৈয়দ রাহাত সিয়াম, সৈয়দ ফারহাত সাকিব, সৈয়দ আইনাক আভিক, মোহাম্মদ ইসা, মোহাম্মদ মারুফ আহমদ প্রমুখ।
আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় যখন লেজেন্ডারি কণ্ঠশিল্পী আলাউর রহমান পরিবেশন করেন গীতিকবি সৈয়দ দুলাল রচিত গান ‘বাবা’। গানটি শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং উপস্থিত অনেকেই আবেগে আপ্লুত হন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ জিল্লুল হক সকল অতিথি, বক্তা ও দর্শক-শ্রোতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে বাংলা মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ জানান অনুষ্ঠানটির সংবাদ প্রচারে অবদান রাখার জন্য।
শেষে ছিল আপ্যায়ন পর্ব, যেখানে অতিথিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
লেখক সৈয়দ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। শামসিয়া সমিতির প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ—যাদের অক্লান্ত শ্রম ও দায়িত্ববোধ ছাড়া এ আয়োজন সম্ভব হতো না।
‘শিকড়ে সন্ধানে’ শুধু একটি ইতিহাসগ্রন্থ নয়, বরং উত্তরাধিকারের অনুসন্ধান—সময়কে ধারণ করার এক অনন্য প্রয়াস।
/অ