দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে আংশিক প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এতে ইতিহাস বিকৃতির পাঁয়তারা রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ছুড়ে ফেলে দেশ উপযোগী নতুন বন্দোবস্তের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু জুলাইয়ের সামনের সারির কিছু নেতা পুরোনো ব্যবস্থাকেই নতুন ব্যবস্থার নামে চালিয়ে দিয়েছেন। এর প্রভাব জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরেও পড়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ ফজলুল করীম মারুফের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস থেকে ইসলামপন্থীদের মুছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন ভূমিকা ও বক্তব্যও জাদুঘরে স্থান পায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৯ জুলাই ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শায়খে চরমোনাই বলেছিলেন, হে নরপিশাচ! তুই আমার সন্তানের বুকে কেন গুলি করলি? আন্দোলনের শুরু থেকে বিশেষ করে ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথের উত্তপ্ত স্লোগান এবং দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও জাদুঘরে স্থান দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আংশিক প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মূলত ইতিহাস বিকৃতির পাঁয়তারা। আমরা এই বিকৃত উপস্থাপনের নিন্দা জানাই।
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে এত বড় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অথচ মনে হচ্ছে, এটি দেখার মতো কেউ নেই। টিকিটিং ও চেকিং ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতিহাসের খণ্ডিত উপস্থাপন দেশের মানুষের মনে আঘাত দিয়েছে।
তিনি বলেন, এত বড় একটি প্রকল্প এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানুষের কাছে হাসির খোরাক হতে পারে। সরকারের প্রতি আহ্বান, ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করুন। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসকে চোখের সামনে শেষ করে দেবেন না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
জাদুঘর পরিদর্শনকারী দলে আরও ছিলেন নগর সহসভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুফতি আবদুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামাল হোসাইন, তরিক মাসউদ, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা গাজী নাজিমুদ্দীন, ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আকন, সহপ্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মাদ বিলাল হোসাইন পাটোয়ারী, সহদাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক মাওলানা নিজাম উদ্দীন, সহছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর, সহনির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু হানিফ, মাওলানা খোরশেদ আলম ও আরিয়ান মো. ইমন।
এমএস/