দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তেজনার মধ্যে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করছি।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও সেখানকার আলেমদের ওপর চাপিয়েছেন এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ আয়োজিত কনসার্ট বন্ধের ঘটনা নিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে খবরটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র ছিল তার থেকে আলাদা। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমাতে বলেছিলেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
হাসনাতের ভাষ্য, ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি, তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। তাই এর অর্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়।
তবে নৌকাবাইচের স্থান নিয়ে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি বলেন, নৌকাবাইচের স্থান হিসেবে সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এর জন্য দুঃখপ্রকাশ করছেন।
সংসদে মূল ঘটনা ও গণমাধ্যমে এর উপস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত বলতে না পারার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। হাসনাত বলেন, সম্পূরক প্রশ্নের সময় সীমিত থাকায় বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরার সুযোগ পাননি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে হাসনাত বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সব নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতে নিতে চান। জুলাই এমন একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবে না।
তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।’
হাসনাতের মতে, যে যার পছন্দের কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং যার পছন্দ নয়, তিনি তাতে অংশ নেবেন না। সরকারের দায়িত্ব হলো, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যায়ভাবে কারও ওপর জোর খাটিয়ে নিজের মত চাপিয়ে দিতে চাইলে সরকারের দায়িত্ব তা প্রতিহত করা। সরকার এ দায়িত্ব পালনে দ্বিধা করলে বা অস্বীকৃতি জানালে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে এবং সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাইকে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, এটি ছিল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলার আন্দোলন। তিনি বলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা তিনি ও তার দল করে যাবেন।
/অ