দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতাদের অংশগ্রহণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারীর নেতারা অংশ নেন।
শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ দলের অন্যান্য নেতারা। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।
সভাপতির বক্তব্যে ফুয়াদ হাসান বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ছিল না। ছাত্র, জনতা, কৃষক ও শ্রমিকের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আন্দোলন সফল হয়েছে। তাই জুলাইয়ের চেতনাকে ধরে রাখতে সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই জাতীয় ছাত্রশক্তির যাত্রা। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এক দিনে পরিবর্তন সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে সেই পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, দেশে এখনো ভয়ের রাজনীতি বিদ্যমান। আখতার হোসেন, নাহিদসহ জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখগুলোকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখলেও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্তদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কথা বললেই রাজনৈতিক পরিচয়ের ট্যাগ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ে গুম, খুন ও লাশ পোড়ানোর মতো নৃশংস ঘটনা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এসব ঘটনার পর রাজনীতি করার ইচ্ছা না থাকলেও নিজের পেশাগত অবস্থান ধরে রেখেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশেষ করে ছাত্রীরা শুধু চাকরির কথা নয়, চেয়ারম্যান, সদস্য বা সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্যও রাখতে পারেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় দেশে ভয়ের রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদী পরিবেশ বিরাজ করছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কখনো হল দখল, নির্যাতন, বাক্স্বাধীনতা হরণ কিংবা ভয়ের সংস্কৃতি ফিরে না আসুক—এটাই প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, কোনো ছাত্রসংগঠন যেন ছাত্রলীগের মতো ক্যাম্পাস দখলের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারে। জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ সব ছাত্রসংগঠনকে পারস্পরিক ভারসাম্য বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষার স্থান নয়; এখান থেকেই সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের বৈষম্য, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কাজে ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে আখতার হোসেন বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং শিক্ষার্থীরা গবেষণা, সংস্কৃতি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে।
এমএস/