দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবেন না। কারণ জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামি দল, যেখানে ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী পুরুষই নারীর পরিচালক এই বিশ্বাস মেনেই তারা রাজনীতিতে এসেছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার চারজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, সদস্য মারজিয়া বেগম এবং ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, শুধু শীর্ষ পদে নারী থাকলেই নারীর উন্নয়ন হয় এই ধারণা সঠিক নয়। এর আগে দেশে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নারীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। জামায়াতে ইসলামী নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যেই নারীরা সম্মান ও অধিকার পাচ্ছেন এবং নেতৃত্ব তৈরির কাজ চলছে।
এ সময় ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থী দিচ্ছে, যা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রমাণ। ভবিষ্যতে নারীরা দলের আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবেন এবং পরবর্তী সময়ে সংসদ নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নারী নেত্রীরা অভিযোগ করেন, ভোটের প্রচারণায় গিয়ে দলের নারী কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের হামলা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সাইবার বুলিংয়ের মুখে পড়ছেন তারা। এমনকি দলের শীর্ষ নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে।
তারা জানান, এসব বিষয়ে সাইবার সিকিউরিটি আইনে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
নারী নেত্রীরা বলেন, তারা একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন। এ বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।
জামায়াতের মহিলা শাখার নেত্রীরা বলেন, এই প্রথম তারা নির্বাচন কমিশনে এসে সারা দেশে নারী কর্মীদের ওপর সংঘটিত হামলার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তারা এ সংক্রান্ত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
তারা বলেন, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। সেই হিসেবে নারীদের নিরাপদ পরিবেশে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াতের নারী সংগঠনের কর্মকাণ্ড একটি মহল পছন্দ করছে না বলেই প্রতিহিংসার কারণে হামলা চালানো হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
নারী নেত্রীরা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, জোর করে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাবে না। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই তারা প্রতিবাদ করবেন। তাদের সাহস ও ঈমান আছে এবং তারা কোনো বাধা মানবেন না।
এদিন জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলার ১৫টি ঘটনার ডকুমেন্ট ও ভিডিও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়।
জে আই