দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মেহেরপুরে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত ৫৪ বছরে দুর্নীতি ও দুঃশাসনে দেশকে তলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং যারা দেশ শাসন করেছে তাদের কেউই বুকে হাত দিয়ে সততার দাবি করতে পারে না। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ এবং এই ঐক্যের অর্থই একটি অবিভক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ।
সোমবার দুপুরে মেহেরপুর-১ ও মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতের শাসকরা জনগণকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি, যুবসমাজের হাতে কাজ তুলে দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারেনি। ব্যাংক লুট, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ ও সামাজিক অবক্ষয়ের দায় তারা এড়াতে পারে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ কি আবার পুরনো বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরতে চায় নাকি পরিবর্তন চায়—এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই তারা মাঠে নেমেছেন। তিনি দাবি করেন, যুবসমাজ, মা-বোন, শ্রমিক ও কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছে।
তিনি বলেন, যারা দেশ শাসন করেছে তারা লুটপাটের পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ ও অঞ্চলভিত্তিক বিভাজন তৈরি করে জাতিকে খণ্ডিত করেছে। ১১ দলীয় ঐক্যের লক্ষ্য হলো একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া, যেখানে আর বিভক্তির রাজনীতি চলবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে দেশের সাড়ে ১২ কোটি ভোটার নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন এবং জনগণ অতীত ও বর্তমানের কার্যকলাপ বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ জনগণ মেনে নেবে না এবং ন্যায়, সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় জনগণের দোয়া ও ভোটে দায়িত্ব পেলে জনগণের সম্পদের দিকে হাত বাড়ানো হবে না এবং সরকারি তহবিলের প্রতিটি আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে সংসদ সদস্য পর্যন্ত সবার সম্পদের হিসাব প্রতিবছর জনগণের কাছে দিতে হবে।
নদী ও পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, দেশের নদীগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দায়িত্ব পেলে প্রথমেই নদীর জীবন ফিরিয়ে আনা হবে। নদী বাঁচলে মাটি ও মাঠ বাঁচবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াতের অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তাদের দুজন শীর্ষ নেতা মন্ত্রী হিসেবে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ভবিষ্যতেও প্রতিটি মন্ত্রণালয় সৎ ও যোগ্য লোক দিয়ে পরিচালিত হবে।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে জাতি তার মা-বোনকে সম্মান করে আল্লাহ সেই জাতিকে সম্মানিত করেন এবং জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী সমাজ ঘর, রাস্তা ও কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
চাঁদাবাজি বিষয়ে তিনি বলেন, যারা চাঁদাবাজিকে পেশা বানিয়েছে তাদের সৎ জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে এবং টাকা ফেরত দিলে রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানান।
যুবসমাজ নিয়ে তিনি বলেন, বেকার ভাতা নয়, দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে যুবকদের গড়ে তোলা হবে এবং চাকরির আবেদনের সব খরচ সরকার বহন করবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলার পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্রপ্রধান আইনের চোখে সমান থাকবে এবং জনপ্রতিনিধিদের শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। বছরে অন্তত একবার তাদের জনগণের মুখোমুখি হতে হবে।
পরিশেষে তিনি জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি এবং ‘না’ মানে গোলামী।
জনসভায় মেহেরপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দীন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনে প্রার্থী নাজমুল হুদাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানানো হয়। জেলা জামায়াতের আমীর ও প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হুসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন।
এমএস/