দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতীয় নাগরিক পার্টির খুলনা বিভাগীয় প্রধান মোতালেব শিকদারের মাথায় গুলির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের বরাতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ মোতালেব শঙ্কামুক্ত।
সোমবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গুলির ঘটনা ঘটে। শুরুতে সোনাডাঙ্গার গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কাছে দুর্বৃত্তরা মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়। তবে কেএমপির তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোনাডাঙ্গা এলাকার আল আকসা মসজিদ রোডের ‘মুক্তা হাউজ ১০৯’-এর নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব শিকদার।
কেএমপির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশের কাছে শুরুতে রাস্তায় গোলাগুলির ঘটনায় আহত হওয়ার মিথ্যা জবানবন্দি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলটি মোতালেবের নারী সহকর্মী তন্বীর ভাড়া বাসা। তিনি গত দুই মাস ধরে ওই বাসায় তন্বীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, ওই বাসা থেকে পাঁচটি বিদেশি মদের খালি বোতল, একটি পিস্তলের খোসা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং অনৈতিক কার্যক্রমের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুই ব্যক্তি ওই বাসায় প্রবেশ করেন।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোতালেব শিকদার খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অনুসারী সৌরভ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন। চাঁদার অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই তাকে গুলি করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
কেএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। মাদক ব্যবহারের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে।’
এদিকে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে কেএমপি জানায়, গুলিবিদ্ধ মোতালেব বর্তমানে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার সিটি স্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।
মুক্তা হাউজের মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার জানান, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তন্বী নামের এক তরুণী এক মাস আগে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তিনি নিজেকে এনজিওকর্মী পরিচয় দিতেন এবং প্রায়ই বাইরে থাকতেন। তার কক্ষে একাধিক পুরুষের যাতায়াত ছিল। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ পেয়ে তাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। এর আগেই গুলির ঘটনা ঘটে।
এমএস/