দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির। সোমবার (২৭ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন দুটি এ প্রতিবাদ ও দাবি জানায়।
আইজিপির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ নাগরিকের সেবক, শাসক নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান হিসেবে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা এবং বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। সে সময় বিনা বিচারে হত্যা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুমের ঘটনা ঘটেছে। আইজিপির বক্তব্যে একই ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির হুমকি ও ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এ বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জামায়াতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপির সন্ত্রাসীদের দমন, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং মাদক নির্মূলে ব্যর্থতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অদক্ষতার পরিচয়। নাগরিকদের জীবনযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে, সরকারের অনুমতি পেলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে—আইজিপির এমন বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্য ঘোষণা সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত। অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধান যখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন, তখন তা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
তাঁরা আরও বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এসব অধিকার উপেক্ষা করে কারও জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই।
বিবৃতিতে পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যারও সমালোচনা করে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, আইজিপির বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর তাঁর বক্তব্যকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা উদ্বেগজনক। তাঁদের দাবি, এ ধরনের মনোভাব ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। কে অপরাধী এবং তাঁর কী শাস্তি হবে, তা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা।
এর আগে সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাউ করে, তাহলে আমরা সেটাই করব।’
আইজিপির এ বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর একটি ব্যাখ্যা দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইজিপি। আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এমএম/