দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলো আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিরোধী দলের কয়েকটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এ সভার আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘কারা এসব ঘটাচ্ছে? এরা কারা? এরা সব পতিত স্বৈরাচার। এরপরও আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসীদের বক্তব্য আসছে। বিরোধী দলের মধ্য থেকেই হুমকি আসছে।’
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘গত রোববার রাতে গুপ্ত বলে পরিচিত সংগঠনের ছাত্র সংগঠনটি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে তাণ্ডব চালিয়েছে। ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করেছে। এর দায় কে নেবে? আপনারা যদি পারেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি লংমার্চ করে দেখান।’
জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনারা দুটি নীতি নিয়েছেন। একটি হলো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিরোধী বক্তব্য দেওয়া, অন্যদিকে নিজেদের সোনালি বা রুপালি রঙের ছেলেদের উসকে দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো। আপনারা দেশের সব রাজনৈতিক অগ্রগতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান আন্দোলনের সময় যখন এ দেশের সব জনগোষ্ঠী এক হয়েছিল, তখনো আপনারা সেই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে আপনারা বাধা দিয়েছেন। কখনোই জনগণের পক্ষে আপনাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। কিন্তু আপনারা ইসলামের নাম ব্যবহার করেন। জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করার কারণে কোনো দিনই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেননি।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একটি ন্যায্য সরকারি কার্যক্রম বা পরিচালনাকে অপপ্রচারের ঘেরাটোপ দিয়ে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এখনো কেউ বলতে পারবে না যে বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে টাকা পাচার হচ্ছে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুটপাট হচ্ছে। আমাদের আর্থিক খাত ও ব্যাংকিং কার্যক্রম আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেক বেড়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কিছু রাজনৈতিক দলের সুর আজ একটু ভিন্ন দেখছি। দুর্নীতির প্রতিবাদসহ জনস্বার্থে কয়েকটি দাবি নিয়ে আপনারা চট্টগ্রাম ও রংপুরে লং মার্চ করছেন, ভালো কথা। কিন্তু জনগণের প্রতি যদি আপনাদের দায়বদ্ধতা থাকে, তাহলে রংপুরে সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কেন ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে গেলেন?’
তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ৪৫০টি গাড়িতে জ্বালানি পুড়তে দিলেন কেন? ওই জ্বালানি অপচয় না হলে অনেক সাশ্রয় হতো। আজ আমাদের জাতীয় গ্রিডে গ্যাস ও বিদ্যুৎ কম। এই জ্বালানি ভালো কাজে ব্যবহার করা যেত।’
রিজভী বলেন, ‘আমি বানিয়ে বলছি না। এটি যমুনা সেতুর টোলের হিসাব অনুযায়ী ৪৫০টি গাড়ি গেছে। অথচ আপনারাই স্বীকার করেছেন, এক হাজার গাড়ি নিয়েছেন। তাহলে কিছু গাড়ির টোলও হয়তো দেওয়া হয়নি।’
বৈশ্বিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘এই সংকটের সঙ্গে সরকার, বিরোধী দল কিংবা দেশের মানুষের কোনো হাত নেই। সংকটটি বাংলাদেশের অনেক দূরে। অথচ আপনারা সরাসরি সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন।’
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সমালোচনার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘আমাদের আপত্তি নেই। গণতন্ত্র আছে, আপনারা সংসদে কিংবা সংসদের বাইরে কথা বলবেন, জোরালো সমালোচনা করতে পারেন। আপনারা লং মার্চ করেছেন, কিন্তু সরকার বা সরকারের পক্ষের দল কোথাও বিন্দুমাত্র বাধা দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করেছিলাম শেখ হাসিনার অসভ্যতা, কাদা ছোড়াছুড়ি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। কিন্তু এখন আবার তার পুনরাবৃত্তি দেখছি। এর জন্যই কি আবু সাঈদসহ এত মানুষের আত্মদান?’
রিজভী বলেন, ‘এই স্বাধীন দেশেই এমন একটি রাজনৈতিক দল ছিল, যারা পাঞ্জাবি, বালুচ, ব্রিটিশ বা স্কটিশ নয়, তারাই আমাদের ওপর এ ধরনের বর্বর আচরণ করেছে। এই গোষ্ঠী অতীতে আমাদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার নিপীড়ন আমার কাছে কোনো কোনো সময় তাদের চেয়েও বেশি ও ভয়াবহ মনে হয়েছে।’
এমএম/