দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশ-বিদেশে বেসরকারি খাতে দক্ষ কর্মীদের চাকরি ছাড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কর্মীরা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং অদক্ষ ম্যানেজমেন্ট ও বসের খারাপ আচরণ সহ্য করতে না পেরে চাকরি ত্যাগ করছেন। এ ছাড়া দক্ষতার আলোকে পদ/পজিশন না পাওয়া, চাহিদার আলোকে কর্ম পরিবেশ না থাকা, যোগ্যতার মূল্যায়ন না হওয়া অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়।
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যোগ্য লোকদের অগ্রাধিকার থাকার কারণে চাকরি ধরে রাখাই অনেক কর্মীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। তবুও চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনেক কর্মীই অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন।
মার্কিন অ্যানালিটিকস ফার্ম গ্যালাপের পরিচালিত এক গবেষণা বলছে, নিজ ইচ্ছায় চাকরি ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে ৫২ শতাংশই মনে করেন, তাদের ব্যবস্থাপক বা প্রতিষ্ঠান যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে চাকরি ছাড়তেন না তারা।
যদিও একটি প্রতিষ্ঠানে সব কর্মীদের কখনো ধরে রাখা সম্ভব নয়। তবে কর্মীদের প্রতি মনোযোগ রাখলে তাদের চাকরি ছাড়ার হার কমানো অনেকটাই সম্ভব।
করপোরেট বা মাল্টিন্যাশনাল কিংবা কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা চাকরির ছাড়ার সময় ‘এক্সিট ইন্টারভিউ’ নেওয়া হয়ে থাকে। এটি সাধারণত কোনো কর্মী চাকরি ছাড়ার রিজাইন লেটার জমা দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের এইচআর বিভাগ এই ইন্টারভিউ নিয়ে থাকেন। এতে কর্মীরা কেন চাকরি ছাড়ছে তা স্পষ্ট জানা যায়। আবার কর্মীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থাপকের কোনো ভুল বা অনিয়ম থাকলে তা জানা যায়। এছাড়া কর্মীরা কর্মক্ষেত্র নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা- এ সব বিষয়ে বসদের সঙ্গে যখন আলাপ করা হয় তখন তাকে ‘সেট কনভারসেশন’ বলা হয়।
কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো যা প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মীদের চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত।
অপর্যাপ্ত সুবিধা:
একটি সংস্থা কীভাবে তার কর্মীদের মূল্যায়ন করে তার সবচেয়ে প্রত্যক্ষ প্রতিফলন হলো অফিস থেকে দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। বেতন ছাড়াও কর্মীর প্রচেষ্টার জন্য ন্যায্য মূল্যায়ন প্রাপ্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কর্মীরা দেখতে পান যে তাদের দক্ষতা, প্রচেষ্টা এবং শিল্পের মানদণ্ডের সঙ্গে অফিসের মূল্যায়ন সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেক্ষেত্রে তারা চাকরির জন্য অন্য কোথাও বেছে নিতে পারেন।
দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকাশের সুযোগের অভাব:
কর্মচারীরা এমন পরিবেশে উন্নতি লাভ করে যেখানে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রসারিত করার সুযোগ দেওয়া হয়। যদি কর্মচারীরা স্থবিরতা বা পেশাদার বিকাশের সুযোগের অভাব অনুভব করে, তবে এটি হতে পারে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কারণগুলোর মধ্যে একটি। অগ্রগতি বা শেখার সুযোগ না থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ কর্মীই চাকরি ছেড়ে চলে যেতে পারে।
অদক্ষদের দক্ষ পজিশন:
প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজের অভিজ্ঞতা গঠনে নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অকার্যকর নেতৃত্ব দলের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ এবং নিম্ন মনোবলের সৃষ্টি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্মীরা নিজেদের অবমূল্যানের চিত্র প্রকাশ্যে দেখতে পায়। যা তাকে কাজের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে এমন নেতার প্রয়োজন যার মাধ্যমে স্পষ্ট দিক-নির্দেশনা, প্রতিক্রিয়া এবং সমর্থন পাওয়া যায় এবং যারা বিশ্বাস ও সম্মানের পরিবেশ তৈরি করে।
কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রাখা আসলেই কষ্টকর। অনেকেই এখানে তাল মেলাতে না পেরে পিছিয়ে পড়েন। অফিসে অতিরিক্ত কাজ করতে হলে অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনে তার প্রভাব পড়ে। দুইদিকে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। অতিরিক্ত কাজের চাপে অনেকে হিমশিম খান। এর ফলে একটা সময় চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
স্বীকৃতি এবং প্রশংসার অভাব:
ভালো কাজের জন্য প্রশংসা প্রত্যাশা করা একটি মৌলিক মানবিক প্রয়োজন যা একজন কর্মীর অনুপ্রেরণা এবং দক্ষতাকে প্রভাবিত করে। উপযুক্ত স্বীকৃতি এবং পুরষ্কার ছাড়া কর্মী নিজেকে অবমূল্যায়িত এবং গুরুত্বহীন বোধ করতে পারে, যার ফলে চাকরির প্রতি সন্তুষ্টি হ্রাস পায় এবং অনেক সময় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অমিল:
অফিসের সাংগঠনিক সংস্কৃতি কর্মীদের প্রভাবিত করে। যদি কর্মীরা কোম্পানির মূল্যবোধ বা সংস্কৃতির সঙ্গে মতানৈক্য খুঁজে পান, তবে এটি অসন্তোষের কারণ হতে পারে। নিয়োগকর্তা এবং কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর অনেককিছু নির্ভর করে। তাই অফিসে নিজের মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু পেলে অনেক কর্মী চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন।
চাকরির নিরাপত্তা না থাকা:
সাংগঠনিক পুনর্গঠন বা আর্থিক অস্থিতিশীলতার সময়ে কর্মীরা তাদের কাজের নিরাপত্তার অভাব বোধ করতে পারে। ছাঁটাই করার বিষয়ে অবিরাম উদ্বেগ কাজের প্রতি মনোনিবেশ এবং আনুগত্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে কর্মীরা বিকল্প হিসেবে আরও নিরাপদ চাকরি খুঁজতে পারে।
কে