দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলনের উদ্যোগে শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের সেমিনার কক্ষে “২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ” শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়জিদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর চলচ্চিত্র, চারুকলা ও গবেষণা বিভাগের সম্পাদক সজীব তানভীর, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নারগিস আক্তার, চলচ্চিত্র প্রযোজক শাহরিন সুমি এবং পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় চলচ্চিত্র আন্দোলনের সংগঠক ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ।
আলোচনায় অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর চলচ্চিত্র সম্পাদক সজীব তানভীর প্রশ্ন তোলেন, এই ৮০০ কোটি টাকার তহবিল কোন মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ হয়েছে কি না। তিনি বলেন, যেহেতু এটি জনগণের অর্থ, তাই এর ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন সরকারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কেউ উদীচীর পোড়া অফিস দেখতে আসেননি।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়জিদ বলেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি একটি নতুন ধারণা। কোন খাতকে ক্রিয়েটিভ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং কী মানদণ্ডে বরাদ্দ দেওয়া হবে তা স্পষ্ট করা জরুরি।
চলচ্চিত্র প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি বলেন, বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও সহায়ক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
চলচ্চিত্র পরিচালক নারগিস আক্তার প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ মূল্যায়ন এবং বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ‘জাতীয় সৃজনশীল শিল্প কমিশন’ গঠনের আহ্বান জানান।
অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান বলেন, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি মননের বিষয়। বাজেট বরাদ্দের নামে নিজের টাকাই ফিরিয়ে দেওয়া হলেও নিয়ন্ত্রণ থাকে আমলাতন্ত্রের হাতে। তিনি চলচ্চিত্রকে সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনা গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি জহিরুল ইসমাম কচির লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহসভাপতি আকতানিন খায়ের তানিন। এতে বলা হয়, প্রস্তাবিত ৮০০ কোটি টাকার সৃজনশীল অর্থনীতি তহবিলের মধ্যে বড় অংশ সিএসআর নির্ভর হওয়ায় এর স্থায়িত্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।
মোহাম্মদ নূরউল্লাহ তার প্রবন্ধে বলেন, জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে স্বীকৃতি দেওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে তহবিলের বণ্টনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি ও তথ্য খাতে বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল এবং দীর্ঘদিনের ১ শতাংশ বরাদ্দের দাবি এবারও প্রতিফলিত হয়নি।
আলোচনা থেকে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, স্থায়ী কমিশন গঠন, সিনেমা হল পুনরুজ্জীবন, শুল্ক প্রত্যাহার এবং সংস্কৃতি সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ উত্থাপন করা হয়।
বক্তারা একমত হন যে, সাংস্কৃতিক বিনিয়োগ ছাড়া টেকসই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এমএস/