দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের কর্পোরেট ইতিহাসে আলোচিত নাসা গ্রুপের সম্পদ লুটের ঘটনায় ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল আলম খন্দকার ও তার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ভাই খোরশেদ আলম খন্দকারের নাম জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের মতে, চক্রটি এতটাই প্রভাবশালী যে অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করার সাহস পাচ্ছেন না।
প্রথম পর্যায়: ব্যবসায়িক সংকট থেকে লুটপাট ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হওয়ার পর ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা শুরু হয়। ক্রেতাদের আস্থা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল আলম খন্দকার allegedভাবে কোম্পানির সম্পদ—সুতা, কাপড়, তৈরি পোশাক ও যন্ত্রপাতি—বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি শুরু করেন। সাবেক এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, এতে তিনি ব্যক্তিগত কমিশন হিসেবে কয়েকশ কোটি টাকা অর্জন করেছেন। সেপ্টেম্বর নাগাদ স্থাবর সম্পদ প্রায় শেষ হলে নজর পড়ে নাসা গ্রুপের মূল্যবান জমি ও স্থাপত্যে।
দ্বিতীয় পর্যায়: সম্পত্তি বিক্রয় ও শ্রমিকদের ব্যবহার সূত্রের দাবি, ভাইস চেয়ারম্যান শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেন। বিশেষ করে অবৈতনিক কর্মচারীদের ধর্মঘটে উৎসাহিত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। ইতিমধ্যে তিনি সম্ভাব্য ক্রেতাদের তালিকা তৈরি করেন, যাতে ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ২৫০ কোটি টাকায় বিক্রি করা যায়। এতে চক্রের লোকজন কমিশন আদায় করে।
তৃতীয় পর্যায়: আদালত ও কারসাজি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আদালত প্রাথমিকভাবে শ্রম মন্ত্রণালয়কে সম্পত্তি বিক্রির অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশ দিলে ভাইস চেয়ারম্যান ও তার আইনজীবী ভাই পরিকল্পিতভাবে আদালত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। আইনজীবীদের একাধিক সূত্র সতর্ক করেছেন খোরশেদ আলম খন্দকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে। একজন কর্পোরেট অ্যাটর্নি বলেন, “এটি ঋণ পরিশোধ নয়; এক কথায় সাজানো চুরি।”
প্রভাব ও ভোগান্তি চক্রের কর্মকাণ্ডের ফলে নাসা গ্রুপের ৩০ হাজার শ্রমিক মাসে মাসে বেতনহীন অবস্থায় রয়েছেন। সরকার যে ১৫০ কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েছে, তা ফেরত পাওয়া নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। টেক্সটাইল সরবরাহকারীরা অভিযোগ করেছেন, দুই বছরে ১২ কোটি টাকার কাপড় সরবরাহের পেমেন্ট পাননি, অথচ প্রতিষ্ঠান অর্ধেক দামে জমি বিক্রি করছে।
পেশাদারদের পরামর্শ আইন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা সংকট নিরসনে পাঁচটি পদক্ষেপের উপর আলোকপাত করেছেন— ১. আদালত-নিযুক্ত স্বতন্ত্র প্রশাসক নিয়োগ ২. অক্টোবর ২০২৪ থেকে সম্পূর্ণ ফরেনসিক অডিট ৩. স্বচ্ছ মূল্যায়ন ছাড়া সম্পত্তি বিক্রয় স্থগিত ৪. বিচারিক ঘুষ ও দুর্নীতির ফৌজদারি তদন্ত ৫. ব্যাংক–সরবরাহকারী–শ্রমিক সমন্বয়ে ঋণদাতা কমিটি গঠন
আইনজীবী খোরশেদ আলম খন্দকার জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, “আমি নাসা গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তবে শ্রমিকদের জন্য কিছু করা যায় কিনা ভেবে কাজ করছি। তার বাইরে কোনো সম্পর্ক নেই।” ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল আলম খন্দকারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএস/