দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে প্রমাণহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে তিনটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর ইসলামকে জড়িয়ে “অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে মাসিক চাঁদা নেয়ার অভিযোগ” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করায় NPB News, খোলা নিউজ এবং নিউজ জি ২৪–এর বিরুদ্ধে এই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উকিল নোটিশে বলা হয়, উক্ত সংবাদে যাচাই ছাড়া ‘ধারণা’ ও ‘গুঞ্জন’কে তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্মান, পেশাগত মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। নোটিশে একে সরাসরি মানহানিকর ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী প্রতিবেদন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নোটিশ অনুযায়ী, প্রতিবেদনে “নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায়” বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন তা নিশ্চিত ও প্রমাণিত ঘটনা। অথচ সেখানে কোনো ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয়, লিখিত অভিযোগ, জিডি বা অফিসিয়াল রেকর্ড, অডিও-ভিডিও প্রমাণ কিংবা আর্থিক লেনদেনের কোনো তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কার্যত চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করা হয়। নোটিশে আরও বলা হয়, “নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্য” সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে এমন অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, যার সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ নেই এবং এতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রতিবেদনে মাসের নির্দিষ্ট সময়ে এসআই ও এএসআইদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের যে দাবি করা হয়েছে, সেখানে কোথায়, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া “চাঁদা না দিলে হয়রানি” কিংবা “সার্ভিস রেকর্ডে স্বাক্ষরের জন্য অর্থ নেওয়া”—এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রেও কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, ভুক্তভোগীর বক্তব্য বা প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। এমনকি প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সংখ্যক পুলিশ সদস্য অর্থ দিয়েছেন বলে উল্লেখ থাকলেও তাদের পরিচয়, বক্তব্য কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো ডকুমেন্ট প্রকাশ করা হয়নি। উকিল নোটিশে অভিযোগ করা হয়, “পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট আছে” দাবি করলেও সেগুলো প্রকাশ না করে সংবাদটি পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী। নোটিশে সংশ্লিষ্ট তিনটি গণমাধ্যমকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত সংবাদ সকল প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রত্যাহার, একই গুরুত্বে সংশোধনীসহ প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ, রিপোর্টারের পরিচয় ও তথ্যসূত্র লিখিতভাবে উপস্থাপন এবং ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার, সম্পাদক, প্রকাশক ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মানহানি ও সাইবার অপরাধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পদক্ষেপ প্রমাণভিত্তিক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।