দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অনলাইন নিউজপোর্টাল ঢাকা স্ট্রিম-এর গ্রাফিক ডিজাইনার স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের আত্মহত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি জানিয়েছেন দেশের ২৪৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক। সম্ভাবনাময় তরুণ সংবাদমাধ্যমকর্মীর অকাল, অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীর শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (২০ অক্টোবর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা এবং কবি ও সাংবাদিক গিরিশ গৈরিক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা স্ট্রিমের বাংলা কনটেন্ট এডিটর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, অশোভন আচরণ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন স্বর্ণময়ী বিশ্বাসসহ তার ২৬ সহকর্মী। অভিযোগকারীদের মধ্যে ৯ জন নারী সাংবাদিক ছিলেন, যারা অভিযুক্ত ব্যক্তির আচরণের কারণে ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ পাওয়ার পরও ঢাকা স্ট্রিমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। নিয়ম অনুযায়ী, অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত করা ও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা করেনি। বরং তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও অভিযোগ তদন্তের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ঘটনায় তা মানা হয়নি, যা আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সহকর্মীদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিচার না পেয়ে স্বর্ণময়ী বিশ্বাস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, হতাশা ও বিষণ্ণতায় নিমজ্জিত হন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি বাংলাদেশের নারীকর্মীদের কর্মপরিবেশের ভয়াবহ বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছে। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের মতো অপরাধের বিচার না হওয়ায় অনেক নারী নীরবে কষ্ট ভোগ করছেন; কেউ চাকরি ছাড়ছেন, কেউ আবার আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন।
স্বাক্ষরকারীরা মনে করেন, স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের মৃত্যু সাংবাদিক সমাজ, সৃজনশীল মানুষ ও নাগরিক বিবেকের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে।
তারা বলেন, স্বর্ণময়ীর মৃত্যু যেন আরেকটি ‘সংবাদ’ হয়ে হারিয়ে না যায়। তার মৃত্যু হোক পরিবর্তনের সূচনা, ন্যায়বিচারের জাগরণ।
বিবৃতির শেষে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, ১. যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত যৌননিপীড়ক আলতাফ শাহনেওয়াজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবিলম্বে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। ২. ঢাকা স্ট্রিম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও অবহেলা তদন্তের আওতায় আনতে হবে। ৩. কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিবৃতিতে সসম্মতি জানিয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী জেড আই খান পান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ আব্দুল বায়েস, শিশু সাহিত্যিক আপন অপুসহ ২৪৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
জে আই