দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কপিরাইট রেজিস্ট্রার এস এম আরশাদ ইমামের বিরুদ্ধে কপিরাইট অফিসে সেবা দিতে গড়িমসি, হয়রানি, সরকারি গাড়ির ব্যবহার এবং অংশীজন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কপিরাইট বিধিমালার খসড়া পর্যালোচনায় প্রযোজকসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না দেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, কপিরাইট অফিসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম অনেকটা একক সিদ্ধান্তনির্ভর হয়ে পড়েছে। রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সহকারী প্রোগ্রামার গাফফার ও শাহজাহান নিয়মিতভাবে কাজ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, কপিরাইট অফিসে সেবা নিতে গেলে ভবনের নিচ থেকে চতুর্থ তলায় উঠতে হয়। অফিসে প্রবেশের দরজা অনেক সময় বন্ধ থাকে এবং সেখানে অপেক্ষা করতে হয়। তার দাবি, সরকারি সময় অনুযায়ী অফিস শেষ হওয়ার কথা বিকেল ৪টায় হলেও রেজিস্ট্রার অনেক সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস করেন।
কপিরাইট অফিসের সরকারি গাড়ি ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কপিরাইট সহকারী রেজিস্ট্রার মোস্তাক আহমেদের দাবি, অফিসের দুটি সরকারি গাড়িই রেজিস্ট্রার ব্যবহার করেন। এর মধ্যে একটি তিনি নিজে এবং অন্যটি পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোস্তাক আহমেদ বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তাদের গাড়ি পাওয়ার কথা থাকলেও দুটি গাড়িই রেজিস্ট্রার ব্যবহার করছেন। ফলে তাদের গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, সরকারি গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কপিরাইট অফিসের একটি গাড়ি নিয়ে রেজিস্ট্রারের পরিবারের সদস্যরা বাইরে যাওয়ার পর সেটি বিকল হয়ে পড়ে। বর্তমানে গাড়িটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে বলেও তারা জানান।
এদিকে কপিরাইট বিধিমালার খসড়া প্রণয়ন ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় অংশীজন নির্বাচনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কপিরাইট অফিসে খসড়া বিধিমালা পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই বিধিমালা নিয়ে বিস্তৃত অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিবর্তে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সভা করা হয়েছে।
নির্মাতা গাজী মাহবুব অভিযোগ করেন, কপিরাইট রেজিস্ট্রারের দপ্তরে প্রযোজকদের সেবা পেতে নানা ধরনের গড়িমসি ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। তার দাবি, কপিরাইট আইন সৃষ্টিশীল মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য হলেও অতীতেও প্রযোজকদের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
গাজী মাহবুব আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রযোজকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি আলাদা পক্ষপাত ছিল। তার অভিযোগ, বর্তমান সময়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কপিরাইট বিধিমালার মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে প্রযোজকদের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
খসড়া বিধিমালা পর্যালোচনা সভায় বাংলা প্রাজল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আমন্ত্রণপত্রের ২০ নম্বর ক্রমিকে প্রতিষ্ঠানটির নাম রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অংশীজন নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে সংশ্লিষ্টতা, স্বচ্ছতা ও প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কপিরাইট বিধিমালা সৃষ্টিশীল মানুষের অধিকার ও স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এর খসড়া চূড়ান্ত করার আগে প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, লেখক, সংগীতস্রষ্টা, প্রকাশক, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা ও কপিরাইট মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণির অংশীজনের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরও দাবি করেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের সভায় অংশীজন নির্বাচন, আমন্ত্রণের মানদণ্ড এবং সভা আয়োজনের প্রক্রিয়া কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা উচিত। কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনকে বাদ দিয়ে বিধিমালা চূড়ান্ত করা হলে ভবিষ্যতে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কপিরাইট অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রেজিস্ট্রার এস এম আরশাদ ইমাম সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগকারীরা জানান। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তা দেখলেও কোনো জবাব দেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে রেজিস্ট্রার এস এম আরশাদ ইমামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএস/