দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে আসে। এই বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাকে বলা হয় বিষুব বা ইকুইনক্স। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর বিষুব ঢাকার স্থানীয় সময় আজ সকাল ৬টা ৫ মিনিটে ঘটেছে।
বিষুবের সময় সূর্য বিষুবরেখার ওপর প্রায় সরাসরি অবস্থান করে। ফলে পৃথিবীর দুই গোলার্ধে সূর্যের আলো পাওয়ার সময়ের পার্থক্য অনেকটাই কমে আসে। বছরে সাধারণত মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে দুটি বিষুব ঘটে। সেপ্টেম্বরের বিষুবের পর উত্তর গোলার্ধে শরৎ এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্ত শুরু হয়।
তবে ‘দিন-রাত সমান’ বললেও বাস্তবে ঠিক ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত হয় না। ঢাকায় আজ সূর্যোদয় হয়েছে প্রায় সকাল ৫টা ৪৭ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে প্রায় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে। ফলে দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড।
এর পেছনে রয়েছে পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান ও সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর পরিক্রমণ। পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ প্রায় ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি হেলে থাকায় বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের আলো পাওয়ার পরিমাণ বদলে যায়। বিষুবের সময় পৃথিবীর অবস্থান এমন হয় যে সূর্যের আলো বিষুবরেখার ওপর প্রায় সরাসরি পড়ে এবং দুই গোলার্ধে দিনের আলো ও রাতের সময়ের পার্থক্য কমে আসে।
তাহলে ঠিক ১২ ঘণ্টা দিন-রাত হয় না কেন? এর একটি কারণ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত নির্ধারণের পদ্ধতি। সাধারণত সূর্যের ওপরের প্রান্ত দিগন্তে ওঠার সময়কে সূর্যোদয় এবং ওপরের প্রান্ত দিগন্তের নিচে চলে যাওয়ার সময়কে সূর্যাস্ত ধরা হয়। আবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে বাঁকিয়ে দেয়। ফলে সূর্য প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় কিছুটা আগে উঠেছে এবং পরে অস্ত গেছে বলে দেখা যায়।
এ কারণে বিষুবের দিনেও অনেক জায়গায় দিনের দৈর্ঘ্য ১২ ঘণ্টার চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে। ঢাকার ক্ষেত্রেও আজ সেটিই দেখা যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বর বিষুবের পর উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে কমতে এবং রাত দীর্ঘ হতে থাকে। ঢাকাতেও এর প্রভাব দেখা যাবে। আজকের দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড হলেও ২৪ সেপ্টেম্বর তা কমে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ডে দাঁড়াবে। এরপর প্রতিদিন দিনের দৈর্ঘ্য আরও কিছুটা করে কমবে।
পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় তার অক্ষের হেলানো অবস্থান বজায় রাখে। ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলো একেক গোলার্ধে বেশি পড়ে। মার্চ ও সেপ্টেম্বরের বিষুবের সময় এই পার্থক্য সবচেয়ে কমে আসে। তাই বিষুব শুধু দিন-রাতের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তনের বিষয় নয়, পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গেও এটি সরাসরি যুক্ত।
প্রতিদিন আমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি। কিন্তু পৃথিবীর মহাজাগতিক গতির কারণে সেই সময়ের হিসাব প্রতিদিনই একটু একটু করে বদলায়। আজকের প্রায় সমান দিন-রাতও সেই পরিবর্তনশীল মহাজাগতিক ছন্দেরই অংশ। আকাশের দিকে তাকালে হয়তো বিশেষ কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে না, কিন্তু পৃথিবী তার কক্ষপথে এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে সূর্যের আলো দুই গোলার্ধে প্রায় সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে।
এমএম/