দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অনিয়ম-দুর্নীতির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ক্ষমতায় এসে তারা বাংলাদেশের কোষাগার লুট করেছে। বিদেশি সাহায্য হিসেবে দেশে যা কিছু এসেছে, তার সবই তারা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকেও টাকা চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রোববার বিকেলে ভোলায় বিএনপি ও এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার। তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
ফিলিপাইনে এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এখন কারাগারে থাকলেও বাংলাদেশে এ ঘটনায় জড়িত কারও বিচার হয়নি বলে মন্তব্য করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আক্ষেপ করে স্পিকার বলেন, আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। তারা নানা ধরনের ঘুষখোরি ও লুটপাট করে, যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।
তিনি বলেন, যেসব অন্যায়-অবিচারের বিচার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনগণের দাবি ছাড়াই হয়, বাংলাদেশে সেসব অপরাধের বিচার চেয়ে মানুষ দিনের পর দিন কান্নাকাটি করলেও কোনো বিচার হয় না।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বনাশ করেছেন লুটপাট করে। আওয়ামী লীগ আমলের এক প্রতিমন্ত্রী জাবেদ—সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী—এর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রেও তাঁর বাড়ি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।
তিনি বলেন, এগুলো বাংলাদেশের সম্পদ, আপনার-আমার টাকা, জনগণের টাকা লুট করে তারা এভাবে বিদেশে নিয়ে গেছে। এখনো প্রশাসনে তাদের বেশ কিছু লোক বসে আছে। এ কারণে দেশের প্রকৃত চিত্র এখনো জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ভালো থাকুক চায় না ভারত
ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক, সেটা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না। তারা বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্য বানানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আগের আওয়ামী লীগ সরকার ১৬-১৭ বছর বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে ওই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থ দেখেছে। তারা অনেক অসম চুক্তি করেছে, যার ফলে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের উদাহরণ দিয়ে স্পিকার বলেন, সেখানে ভারতীয় জাহাজ এলে অন্য সব জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের জাহাজও সরিয়ে দিতে হয়। আগে ভারতীয় জাহাজের পণ্য খালাস করা হয়, এরপর বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা জাহাজ খালাসের সুযোগ পান।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তারা বাংলাদেশের ভূমির ওপর দিয়ে অনেক পণ্য পরিবহন করে। এসব পণ্যের জন্য যে শুল্ক দেওয়া উচিত, তা সঠিকভাবে দেওয়া হয় না। এখানে তারা বিনা শুল্কে কিংবা নামমাত্র শুল্কে পণ্য পরিবহন করছে, যা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ সারা বিশ্বে শুল্ক দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে হয়।
সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, আমাদের সীমান্তে প্রতিদিনই তারা লোক হত্যা করছে। পাকিস্তানের সঙ্গেও ভারতের সীমান্ত রয়েছে। সেখানে তো কাউকে কোনো দিন গুলি চালানো হয় না।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, হাসান মাকসুদুর রহমান, ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন জুলফিকারসহ অনেকে।
এমএস/