দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এর প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি হয়নি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অপেক্ষা ও নানা প্রশ্ন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আবার কোনো জটিলতা দেখা দিয়েছে কি না।
গত ৩১ আগস্ট নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় সরকার। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুতই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে তখন জানানো হয়েছিল। তবে রোববার পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, অনুমোদনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চিন্তা বাড়ছে।
তবে সাবেক আমলাদের মতে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরপরই গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। এর আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগা স্বাভাবিক।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ধাপগুলো শেষ করতে হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী এ প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও সময় লাগতে পারে।
খসড়া প্রস্তুত করছে অর্থ মন্ত্রণালয়
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর এর বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা তৈরির কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, প্রজ্ঞাপনে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে।
সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, শুধু বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। এসব বিষয় সমন্বয় করতেই সময় প্রয়োজন।
খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ভেটিং করানোর নিয়ম রয়েছে। সেখানে বিদ্যমান আইন ও সংবিধানের সঙ্গে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না, পাশাপাশি প্রজ্ঞাপনের ভাষা ও আইনি পরিভাষা যথাযথ কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।
এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি
বিভিন্ন গণমাধ্যমে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর খবর এলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রোববার পর্যন্ত তা সেখানে পৌঁছায়নি।
আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে খসড়াটি এক-দুই দিনের মধ্যে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। তবে রোববার পর্যন্ত তারা কোনো খসড়া পাননি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা অবশ্য বিষয়টিকে বিলম্ব বা আটকে থাকার ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষ্য, গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ চলছে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নের নির্দেশনা চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
আগের পে-স্কেলেও সময় লেগেছিল
২০১৫ সালে সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয় ১৫ ডিসেম্বর। অর্থাৎ অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশে সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে তিন মাস।
সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, এবারও একই ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তাই অনুমোদনের পরপরই গেজেট না হওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ
অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ১ম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। আর ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪২ শতাংশ।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। ফলে বাস্তবায়ন শুরু হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই থেকেই বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাওয়ার কথা।
প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের পাশাপাশি পরবর্তী পর্যালোচনা কমিটির মতামত বিবেচনা করেই নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার।
যে আই