দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে র্যাবের মতো একটি বাহিনী প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বাবর বলেন, র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি নামে যে সংগঠনটি গঠিত হচ্ছে, সেটি প্রয়োজন। দেশে এখনো বিভিন্ন বোমা হামলা ও নাশকতার ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী একটি দেশ বিভিন্নভাবে নানা ধরনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে র্যাবের মতো একটি সংগঠন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে র্যাবের মতো একটি সংগঠন অত্যন্ত প্রয়োজন। দক্ষতা, শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ ধরনের বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘গত বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসন, পতিত সরকারের সেটাই উনাদের চোখের সামনে আছে। গত ১৭ আগস্ট সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা হয়েছিল। বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ধরা হয়েছিল, চাঁদাবাজ এবং বিভিন্ন স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য র্যাব কাজ করেছিল। সফলতার সময় বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছিল। আমার মনে হয়, সেটা আমাদের সম্মানিত বিরোধী দলের সদস্যরা ভুলে গেছেন।’
বাবর আরও বলেন, ‘র্যাবের মতো একটা সংগঠন এই দেশের অত্যন্ত প্রয়োজন। এই কারণে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে, শ্রদ্ধার সঙ্গে, নিষ্ঠার সঙ্গে র্যাবের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। সেই সময়কালে তখনকার প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, এবং তার নির্দেশে এক ঘণ্টার জন্যও বিরোধীদলের কোনো রাজনৈতিকভাবে র্যাবকে পরিচালিত করা হয়নি।’
এসআরবি গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনো এ ব্যাপারে বেশ কিছুদিন আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার যখন কথা হয়েছিল, উনি তখন বলেছিলেন, র্যাবকে পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু আমি উনার সঙ্গে অনেকক্ষণ আর্গুমেন্ট করেছিলাম যে, পরিবর্তন করাটা ঠিক হবে না। পরবর্তীতে আমার সঙ্গে উনার কথা হয়নি। কিন্তু আমি বুঝি, র্যাবের মতো একটা সংগঠন দরকার।’
র্যাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনার প্রসঙ্গে বাবর বলেন, ‘র্যাবের দুষ্কর্মের কথা, সেটা তো আমরা বলেছি। সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী আমি। যখন ২৮ মে ২০০৭ সালে ধরে নিয়ে যায়, তখন একটা মিথ্যা অস্ত্র দিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। সেই অস্ত্রের সাক্ষী ছিল একজন র্যাবের উইং কমান্ডার। সেটাকে আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেই সময় এটার আসল জিনিস হচ্ছে, যিনি আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী থাকবেন বা যে আমাদের সরকার থাকবেন, সেই সরকারপ্রধান বা মন্ত্রী যেখানে কথা দিচ্ছেন যে র্যাবকে, মানে এসআরবিকে সেইভাবে পরিচালনা করবেন, সেটার ব্যাপারে আমি বলতে চাই।’
বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বাবর বলেন, ‘আপনাদের বিরোধী দল নেতৃবৃন্দকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই। ইনশাল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাকে আশ্বস্ত করেছেন যে এ এসআরবিকে, এই সংগঠনটা হওয়া প্রয়োজন দেশের জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এবং এটা অত্যন্ত প্রয়োজন।’