দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এডিস মশার প্রজনন ঠেকাতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে।
আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এডিস মশার লার্ভার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ সময়ে এডিস মশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বেড়ে যায়।
গত পরশু প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে একটি সভা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও মহাপরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পাওয়া হিসাব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, জানুয়ারি থেকে গত পরশু পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন, আবার কিছু রোগী এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও জেলাগুলোর প্রত্যেক হাসপাতালে আলাদাভাবে পাঁচটি করে ডেঙ্গু রোগীর শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পারি, লার্ভা যদি উৎপন্ন না হয় এবং এডিস মশা যদি তৈরি না হয়, তাহলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এমনিতেই কমে যাবে।’
তিনি বলেন, জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হচ্ছে। উদ্বোধনী কর্মসূচিতে স্কাউট, বিএনসিসি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবী কর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার, বিডিক্লিন এবং দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে বিএনসিসি, স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, রোভারসহ স্বেচ্ছাসেবীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদের নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, উদ্বোধনী কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে তথ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিনিধি, মাউশির মহাপরিচালক, বিএনসিসির মহাপরিচালক, রেড ক্রিসেন্টের মহাসচিব, স্কাউটের নির্বাহী পরিচালকসহ দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সদস্য করা হয়েছে।
জাতীয় কর্মসূচির কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুল সত্তার।
মীর শাহে আলম বলেন, জাতীয় পর্যায় থেকে জেলা ও মাঠপর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচির প্রচার ও জনসম্পৃক্ততায় তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য বিভাগ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
এমএম/