দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ সুবিধা পেতে আগ্রহীদের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি, ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের তথ্য এবং নিয়োগপত্রের কপি জমা দিতে হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সম্মানি পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের জন্য কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত আগ্রহী ব্যক্তিদের তফসিল-১-এ বর্ণিত নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা এলাকার ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা রাউটিং নম্বরসহ এমআইসিআর চেকের স্পষ্ট কপি দিতে হবে। এ ছাড়া নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে খোলা ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব নম্বরও দেওয়া যাবে।
এর সঙ্গে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জারীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রদত্ত নিয়োগপত্রের কপিও আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের জন্য সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি থাকবে। সিটি করপোরেশনের অঞ্চলভিত্তিক কমিটির আহ্বায়ক হবেন সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কমিটিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত অঞ্চলভিত্তিক দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন।
উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত স্থানীয় দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন।
কমিটি আবেদন যাচাইয়ের পর নির্বাচিত ব্যক্তিদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করবে। এ জন্য Beneficiary Management Information System (BMIS) সফটওয়্যারে তথ্য অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সম্মানি পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলা কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার বা গির্জায় কর্মরত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার প্রমাণ হিসেবে নিয়োগপত্র থাকাও বাধ্যতামূলক।
এ কর্মসূচির আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেবকদের মাসিক সম্মানি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উৎসব ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএম/