দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কোম্পানি নিবন্ধনে দীর্ঘসূত্রতা ও দাপ্তরিক নির্ভরতা কমিয়ে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবসা নিবন্ধনব্যবস্থার আদলে যৌথ মূলধন কম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) চালু করতে যাচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে উদ্যোক্তারা ঘরে বসে কোম্পানির নাম ছাড়পত্র থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত যাচাই শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নতুন কোম্পানি নিবন্ধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়নসংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য উদ্যোক্তাদের আর আরজেএসসি কার্যালয়ে যেতে হবে না। ঘরে বসেই স্বল্প সময়ে নিবন্ধনের সুযোগ দিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় যেকোনো সময় অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
আবেদনের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত ও জালিয়াতি ঠেকাতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ই-টিআইএন ও মোবাইল নম্বর রিয়েল-টাইমে যাচাই করা হবে। ফলে ভুল বা অসংগত তথ্য দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
কম্পানি গঠনের আইনি প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। সংঘস্মারক ও সংঘবিধির ক্ষেত্রে তিন ধরনের ব্যবস্থা রাখা হবে—স্ট্যান্ডার্ড ‘মডেল সংঘস্মারক ও সংঘবিধি’, ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী ধারা সংযোজনের সুযোগসহ ‘কাস্টমাইজড সংঘস্মারক ও সংঘবিধি’ এবং পূর্বানুমোদিত ‘প্রি-অ্যাপ্রুভড সংঘস্মারক ও সংঘবিধি’। মডেল ও প্রি-অ্যাপ্রুভড নথি ব্যবহারে যাচাই ও অনুমোদনের সময় কমবে।
প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় করতে নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কম্পানি লিমিটেডের ডাটাবেজের সঙ্গে সিস্টেমটির সংযোগ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞরা কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন।
ইতিমধ্যে সফটওয়্যারটির নিবন্ধন মডিউলের ইউজার অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পরিমার্জনের কাজও শেষ পর্যায়ে।
প্রথম ছয় মাস আবেদন পাওয়ার পর কর্মকর্তারা নাম ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দ্রুত যাচাই করবেন। সব তথ্য সঠিক থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় নাম ছাড়পত্র বা ‘অটো নেম ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থা আরো নির্ভুল করতে অ্যালগরিদম উন্নয়নের কাজ চলছে।
প্রশাসনিক অনুমোদন অনুযায়ী সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাইনামিক সলিউশন লিমিটেড আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত রূপান্তর ও হস্তান্তর সম্পন্ন করবে।
কেএম