দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাত, জান্তা সরকারের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। তবে এই দীর্ঘ সময়ে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ। এমনকি কবে নাগাদ প্রত্যাবাসন শুরু হবে, তাও এখনও অজানা নীতিনির্ধারকদের কাছে।
আপাতত, সংকট সমাধানে চীনের ওপর আস্থা রাখতে চায় বাংলাদেশ। ভূরাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে ঢাকা-বেইজিং-নেপিদো ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খুলতে পারে, এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের। তবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের এই সংকটকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট। মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। এরপর সংকট সমাধানে একের পর এক উদ্যোগ নেয় ঢাকা। প্রথমে মিয়ানমারের সঙ্গে সই হয় দ্বিপক্ষীয় অ্যারেঞ্জমেন্ট। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও দেখা দেয় নানা জটিলতা—আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) নাকি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), তা নিয়েও ছিল মতভেদ।
তবে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে ঢাকা-বেইজিং-নেইপিদোর ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সংকট সমাধানে নতুন আশার সঞ্চার হলেও, শেষ পর্যন্ত বাস্তবে প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি।
দীর্ঘ এই সময়ে প্রথম দফায় প্রায় ৮০ হাজার এবং সম্প্রতি আরও প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি ছাড়া এই ইস্যুতে তেমন কোনো প্রাপ্তি নেই বাংলাদেশের। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘ মহাসচিবকে নিয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর আশাবাদের কথাও শুনিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরেও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে চীন। ভূরাজনীতির জটিল নানা সমীকরণে এই ইস্যুতে বেইজিংয়ের দিকেই তাকিয়ে ঢাকা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেও কাজ করে এ সংকট সমাধানের পথে এগোনো সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে ১৫ লাখের বেশি মিয়ানমারের নাগরিকের দায়ভার এখন বাংলাদেশের কাঁধে। তাদের ভরণপোষণে বৈশ্বিক সহায়তাও কমতে কমতে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে একের পর এক সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে একটি সংকট থেকে আরেকটি সংকটে বিশ্বের মনোযোগও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেসিডেন্সির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও বিশ্ববাসীর নজরে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের নানা প্রভাবে বাংলাদেশ বিপর্যস্ত উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি রোহিঙ্গারা যাতে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, চীন যেহেতু মনে করে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাভবান হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের হত্যা ও জাতিগত নিধনের দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
কে