দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নিচতলায় তাঁর সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ পরিচালক মনির হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংসদ কক্ষে ভোট হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সভায় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলও সভায় অংশ নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সাড়ে তিন দশক পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনে সিইসির কাছে জমা দিতে হয়। মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কার্যক্রমও সিইসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
একক প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয় এবং নির্বাচনি কর্তার সহায়ক কর্মকর্তারা ভোটের কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন।
১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। পরে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনে প্রকাশ্য ভোটের বিধান করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে বিএনপির ২৪৭ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জন, স্বতন্ত্র আটজন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আটজন সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, গণপরিষদ, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন করে সদস্য রয়েছেন।
এমএম/