দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে একসময় ওই স্থাপনায় রাখা হয়েছিল। পরে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) আয়নাঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত গুম ও হত্যার শিকার প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ইলিয়াস আলী ও সাজেদুল ইসলাম সুমনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমানকে এই টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল বলে তার বর্ণনা, সাক্ষ্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় তার বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট কক্ষও দেখা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বিভিন্ন সাক্ষ্য, ভুক্তভোগীদের বর্ণনা ও তদন্তে আমরা প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছি যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে র্যাব-১-এর এই স্থাপনার একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
তিনি জানান, টিএফআই সেলে মোট ২৯টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষ কী উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন দলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদীসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্য, আসামিপক্ষের আইনজীবী, গুম কমিশনের সদস্য নুর খান লিটন এবং গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ র্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির কথিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এমএম/