দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জুন মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২০টি ঘটনার বিপরীতে জুলাইয়ে এ সংখ্যা কমে ৩০৬-এ নেমেছে। জুনে ৬৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে ৯০-এ পৌঁছেছে। একইভাবে আত্মহত্যার ঘটনা ১৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮টি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনাও ২১ থেকে বেড়ে ২২টি হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জুলাই ২০২৬-এর নারী, শিশু, মাদক ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত সহিংসতার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জুন ও জুলাই মাসের বিভিন্ন ঘটনার তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমেছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে, এ মাসে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার মতো গুরুতর অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। একই সময়ে অনলাইন জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও মাদক ব্যবসায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এমএসএফ বলছে, মোট ঘটনার সংখ্যা কমলেও সহিংসতার ধরন আরো জটিল ও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার উচ্চ হার নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এ মাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৬ থেকে ৭টিতে, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৫ থেকে ৩টিতে, শারীরিক নির্যাতন ৫৬ থেকে ৪২টিতে এবং হত্যার ঘটনা ৭৬ থেকে ৫২টিতে নেমে এসেছে। অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা সামান্য বেড়ে ১২ থেকে ১৩টি হয়েছে, আর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা দুই মাসেই একটি করে ঘটেছে।
জুলাই মাসে তিনটি ফৌজদারি অপরাধ স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এর মধ্যে দুটি ধর্ষণচেষ্টার এবং একটি ধর্ষণের ঘটনা ছিল।
এমএসএফের মতে, এ ধরনের গুরুতর অপরাধ সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত ঘটনায় জুলাই মাসে কোনো নিহত বা আহতের তথ্য না থাকলেও ১০ জনকে আটক করা হয়েছে, যেখানে জুনে কোনো আটক ছিল না।
এমএসএফের মতে, এটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়। তবে অনলাইন জুয়ার বিস্তার তরুণ সমাজের মধ্যে অর্থনৈতিক শোষণ, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে সমাজে অপরাধমূলক অন্যান্য ঘটনার বিষয়েও বলা হয়েছে।
কেএম