দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) ডাটাবেইজে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় শ্রেণিকৃত ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ নিষ্পত্তি কৌশলসংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হালনাগাদের কাজ চলছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস-৯) বাস্তবায়ন, তালিকাভুক্ত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জামানতের মূল্য নির্ধারণ, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা হালনাগাদ, খেলাপি ঋণ আদায়ে কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, একজন ঋণগ্রহীতার জন্য সমগ্র ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, অর্থঋণ আদালতের বিচারক প্যানেলে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তি, ঋণ আদায় কার্যক্রমে অযথা আইনি জটিলতা কমানো এবং বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-সংক্রান্ত সংশোধনী আইন প্রণয়ন এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে জানান।
এমএম/