দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলায় সৃষ্ট বন্যায় ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে প্রকাশিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলা সাতটি হলো খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার।
দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।
চট্টগ্রামে ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পরিবার। জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বর্তমানে ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে চাল, নগদ অর্থ, শুকনা ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪ জন, যার মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
বান্দরবানে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন আহত হয়েছেন। হবিগঞ্জে ৬ হাজার ৪৪৪টি পরিবার পানিবন্দি হলেও জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খোলা দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কেউ আশ্রয় নেননি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
এমএম/