দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে। তবে চুক্তির আওতায় পানি বণ্টনের কার্যকারিতা শেষ হয়েছে মে মাসেই। মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে চুক্তি নবায়ন বা নতুন কাঠামো নিয়ে আবারও আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবেগৌড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। কয়েক দশকের আলোচনার পর হওয়া এই চুক্তি মূলত ফারাক্কা ব্যারাজকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের পানিবণ্টন বিরোধের সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের পর গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনাও তৈরি হয়।
এর আগে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী, সহযোগিতা ও শান্তি চুক্তির মাধ্যমে যৌথ নদী কমিশন গঠিত হলেও কার্যকর সমাধান আসেনি। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর হলেও ১৯৮২ সালের পর তা আর নবায়ন হয়নি।
১৯৮০-এর দশকে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ১৯৯৬ সালের চুক্তির আগে আন্তর্জাতিক ফোরামেও বিষয়টি বারবার উত্থাপন করে বাংলাদেশ।
চুক্তি অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কায় গঙ্গার পানিপ্রবাহের ভিত্তিতে দুই দেশ পানি ভাগ করে নেয়। পানিপ্রবাহের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সূত্রে পানি বণ্টনের বিধান রাখা হয়েছিল।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গঙ্গার পানি বণ্টন ইস্যুতে আবারও বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
জে আই