দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ থানা সড়কের সংস্কার কাজ ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ায় প্রায় ছয় মাস ধরে স্থবির হয়ে আছে উন্নয়ন কার্যক্রম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিদিন থানায় যাতায়াতকারীসহ জাঙ্গালিয়া, ধুপুড়িয়া, মহম্মদপুর সদর, রায়পাশা ও চরপাচুড়িয়া গ্রামের হাজারো বাসিন্দা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। সাথে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের শেষ দিকে বিশ্বাসপাড়া থেকে হরেকৃষ্ণপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪.১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কাজের দরপত্র পায় আব্দুল হাকিম নামের এক ব্যক্তির মালিকাধীন ‘জেরিন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে পরে কাজটি কিনে নেন শিপন নামের আরেক ঠিকাদার।
অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু করে সড়কটি খুঁড়ে ফেলে রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো অগ্রগতি না করে ঠিকাদার উধাও হয়ে যান। অথচ চলতি বছরের শুরুর দিকেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের খোয়া উঠে ধুলায় পরিণত হয়েছে। ধুলোময় এই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি—ব্রেক করলেই চাকা পিছলে যাচ্ছে।
রায়পাশা গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে সড়কটি দিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যেত। এখন বাজারে যাওয়া বা দৈনন্দিন কাজ করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক আজগর আলী বলেন, ‘রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখার পর থেকে শুধু ধুলো আর ধুলো। মুখে মাস্ক দিয়েও চলা যাচ্ছে না। প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর শুনি। ঠিকাদার নাকি পালিয়ে গেছে। আমরা এখন চরম ভোগান্তিতে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদার শিপন দাবি করেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। তবে সব প্রস্তুতি রয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে এলেই কাজ শুরু করা হবে।
মহম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলজার হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যদি শিগগির কাজ সম্পন্ন না করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেএম/কে