দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গুম ও হত্যার ঘটনায় মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ইকবাল করিম ভূঁইয়া দাবি করেছেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কিছু সদস্য নিয়মিত ডিজিএফআইয়ের কার্যালয়ে কাজ করত। তিনি বলেন, মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকর্তা ডিজিএফআইয়ের সাতটি বৈঠককক্ষের একটি ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা দিতেন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পারেন যে সেনাবাহিনীর জুনিয়র কর্মকর্তাদের ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। তিনি জানান, এক কনিষ্ঠ কর্মকর্তা র্যাব থেকে ফিরে এসে স্বীকার করেন যে তিনি ছয়জন মানুষ হত্যায় জড়িত ছিলেন এবং প্রতিটি হত্যার জন্য ১০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন, যা তিনি পরে গ্রামের মসজিদে দান করেন।
আরেক ঘটনায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশে তিনি ছয়জন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছেন। সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, তিনি ওই কর্মকর্তাকে জানান যে নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ হত্যা করা সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ।
আরও একটি ঘটনায় এক মেজর র্যাব সদস্য হিসেবে একাধিক সন্দেহভাজনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ায় তিনি ওই কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন।
র্যাবের কার্যক্রম সম্পর্কে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রসফায়ার বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা গোপনে চলতে থাকে। তার ভাষায়, যাদের হত্যা করা হতো, তাদের পেটে ইট-পাথর বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো বলে তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বেনজীর আহমেদ র্যাবের মহাপরিচালক এবং জিয়াউল আহসান অতিরিক্ত মহাপরিচালক হওয়ার পর।
তিনি আরও জানান, র্যাব ও ডিজিএফআই থেকে সেনাবাহিনীতে অফিসার ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়ায় তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জিয়াউল আহসানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে তাকে অনুরোধ করেছিলেন। তিনি প্রথমে তা প্রত্যাখ্যান করলেও পরে সংঘাত এড়াতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।
সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনী থেকে র্যাবে পাঠানো কর্মকর্তারা পেশাদার খুনি হয়ে ফিরে আসছে, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করত। তিনি দাবি করেন, এ কারণে তিনি নিজে র্যাবে পাঠানো ও সেখান থেকে ফেরা কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং হত্যা মিশনে পাঠানো হলে সরাসরি তাকে ফোন করতে বলতেন।
জবানবন্দির শেষ অংশে ইকবাল করিম ভূঁইয়া ট্রাইব্যুনালকে বলেন, সেনাবাহিনীর আত্মশুদ্ধির জন্য র্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্ত করা জরুরি। তিনি বলেন, র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত না হলে অন্তত সামরিক সদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনা উচিত এবং আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতির জন্ম দেওয়ায় ডিজিএফআইও টিকে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে।'
এমএস/