দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আর মাত্র চারদিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর গণভোটে যদি দেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে, তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন সূচিত হতে যাচ্ছে। এই জয় মূলত গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে একটি আইনি ভিত্তি দেবে এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার ‘হ্যা’ জয়ী হলে দেশ যেসব বড় পরিবর্তনের দিকে যাবে তার মধ্যে রয়েছে- ১৮০ দিনের মধ্যেসংবিধান সংস্কার; ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ; সংসদে নতুন সংস্কৃতি এবং বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে আসবে পরিবর্তন।
নবনির্বাচিত সংসদ প্রথম ছয় মাসে তাদের প্রধান দায়িত্ব হবে জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।
প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র আধিপত্য কমিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হবে। এছাড়া উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ বিশিষ্ট দ্বি-কক্ষ সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন হতে পারে।
সংবিধানে স্থায়ীভাবে ‘নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন। এছাড়া বাজেট ও অনাস্থা প্রস্তাব বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা দলের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার (৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার) পাবেন।
উচ্চ আদালতের বেঞ্চ ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতে সম্প্রসারণ এবং সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার বিধান আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়া। অন্যদিকে ‘না’ জয়ী হলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই সনদ বাস্তবায়নে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে না। তাই এই গণভোটকে দেশের আগামীর গণতান্ত্রিক যাত্রার ‘লিটমাস টেস্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জুলাই সনদের পক্ষে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থনে প্রচার-প্রচারণা চালানোর সময় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছিলেন, জুলাই সনদের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রস্তাবগুলোকে চারটি প্রধান প্রশ্নে সংক্ষিপ্ত করে ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। এর ফলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হবে এবং ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। জুলাই সনদের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একযোগে কাজ করবে। ফলে ক্ষমতাসীনরা চাইলেই নিজের ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি সম্মতি নিতে হবে।
কে