দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
এর ফলে, নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এ দেওয়া বাংলাদেশের সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহার হলো।
এতে করে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্যাতনের কারণে কেউ মারা গেলে, তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রস্তাব অনুমোদনের কথা জানায়।
গত ২৯ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এই সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রেস উইং এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয় এবং বর্তমানে ১৭৩টি দেশ এটি সমর্থন করেছে।
বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কনভেনশনটিতে যোগ দেয়। তবে অনুচ্ছেদ ১৪(১) এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে যোগদানের সময় সংরক্ষণী শর্ত দিয়েছিল।
এই সংরক্ষণী শর্তের কারণে এতদিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এখন সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহার হওয়ায় সেই বাধা দূর হলো।
উপদেষ্টা পরিষদ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এতে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।
পাশাপাশি রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাও বাড়বে। উল্লেখ্য, এটি বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের পুরোনো দাবি ছিল।
এবি/