দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন (২১) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটের ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে আয়োজিত সিপাহি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন আরফান হোসেন। পরবর্তীতে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এ সময় তার বাবা মো. নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আরফান হোসেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা–অনন্তপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ওই সীমান্তেই কিশোরী ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার মর্মান্তিক দৃশ্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
শিক্ষাজীবনে আরফান হোসেন ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি আবেদন করেন এবং প্রাথমিক বাছাই শেষে চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
কুচকাওয়াজ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আরফান হোসেন। তিনি বলেন, আমার বোনকে সীমান্তে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আজ আমি সেই সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্য। আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো সন্তান বাবা-মায়ের কাছ থেকে এভাবে হারিয়ে যাক।
তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার্থে আমার জীবন বিপন্ন হলেও আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন কোনো বোন বা মা-বাবার সন্তান পাখির মতো গুলি খেয়ে প্রাণ না হারায়।
আরফান জানান, ফেলানী হত্যার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৬-৭ বছর। ঘটনার পর থেকেই তার বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল, তিনি যেন দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই নিজেকে প্রস্তুত করে বিজিবিতে যোগ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, ফেলানী খাতুন হত্যার দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার বেদনাবিধুর অধ্যায়ের মাঝে আরফান হোসেনের বিজিবিতে যোগদান পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। অনেকের বিশ্বাস, দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের মাধ্যমে আরফান একদিন তার বোন ফেলানীর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ করবেন।
জে আই