দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জু। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক শোকবার্তায় বলেন, ‘এই শোকের সময়ে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।’
বুধবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় ভুগছিলেন। হৃদরোগ ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত ২৩ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা তদারকি করেন। এই মাসের শুরুতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি পেয়েছিলেন। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি জীবনের পরম সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। রাজনীতিকদের জীবনে উত্থান-পতন থাকে। খালেদা জিয়াও মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেফতার, কারাবাস, নির্যাতন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ সহ্য করেছেন। পাশাপাশি স্বামী ও সন্তান হারানোর শোক এবং দীর্ঘ রোগযন্ত্রণাও তাকে ছাড় দেয়নি।
রাজনৈতিক জীবনে মতাদর্শিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ, লাঞ্ছনা ও নিষ্ঠুরতার শিকারও হয়েছেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে ১৯৯১ থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান।
তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে দেশভাগের পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে আসেন। পরিবারের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৬০ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেও বিজয়ী হয়েছেন।
এমএস/