দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার বাধাগ্রস্ত করতে বয়ান উৎপাদন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, ‘শাহবাগে আমাদের ভাইয়ের বিচারের জন্য দাঁড়াতে হচ্ছে। আমরা যাতে আন্দোলন না করি, এখানে না বসি; সেজন্য আমাদের আখ্যা দেয় মব।’
এসময় তিনি ওসমান হাদি হত্যায় জড়িতরা যত বড় শক্তিই হোক বিচারের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপস্থিত সমবেত সবাই এসময় জোর গলায় সমর্থন ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে শরিফ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন।
এর আগে জুমার নামাজের পর শাহবাগে সমবেত হয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। রাতেও তারা সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের অবরোধের কারণে শাহবাগে যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। আশেপাশের রাস্তাগুলোতে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচিতে তিনি বলেছেন, ‘বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকব। এই অবরোধ চলছে, চলবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত যাব না। যতক্ষণ পর্যন্ত হাদি হত্যার পেছনে যারা জড়িত, পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী- তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
বক্তব্যের শুরুতেই শহীদ হাদির স্মৃতি টেনে আনেন জুমা। তিনি বলেন, ‘যে ভাইয়ের কণ্ঠে আমরা রাজপথে স্লোগান শুনতাম, আজ তাকে কবরে রেখে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে। এটা পুরো ইনকিলাব টিমের জন্য অপূরণীয় শোক।’
বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির শূন্যতা নিয়ে তিনি প্রশাসন এবং সরকারের দিকে সরাসরি তীর ছুঁড়েন।
অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অথর্ব সরকার’ উল্লেখ করে জুমা বলেন, ‘এদের কাজটা কি। হাদির মৃত্যুর পর খুনিদের অবস্থান, পলায়ন বা দেশে থাকা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে স্পষ্ট কোনো চিত্র নেই। গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বও আমাদের পালন করতে হচ্ছে। এমন একটা সরকারকে বাংলাদেশের মানুষের টাকায় বসিয়ে রেখে লাভ কী?’
বাংলাদেশের নেতারা একটা জায়গায় ‘কট’ দাবি করে ইনকিলাব মঞ্চের এ নেত্রী বলেন, ‘তারা সবসময় লিঁয়াজো করে, সমঝোতা করে। এজন্য তারা কথাও বলে না, জীবনের থ্রেটও নাই। জীবন দিতে হয় ওসমান হাদির মতো নেতাকে, যাকে কেউ কোনোদিন কিনতে পারে নাই।’
এ সময় বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কিছু পক্ষের ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জুমা।
তিনি বলেন, ‘আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, বাংলাদেশে যদি মব করে ফাঁসিতে ঝোলানো যায়, তাহলে আমরা যখন শহীদের খুনিদের বিচারের দাবি করি, সেটা মব হবে কেন? আমরা বিশৃঙ্খলা করতে আসিনি। ইনকিলাব মঞ্চের কোনো কর্মসূচিতে সহিংসতার রেকর্ড নেই। নির্বাচন পেছানোর জন্য সহিংসতার যে অজুহাত দাঁড় করানো হচ্ছে, সেটা বিচার আটকে রাখার কৌশল। শহীদের রক্তের ইনসাফের দাবিকে থামানোর কৌশল।’
ইনকিলাব মঞ্চের এই নেত্রী আরও বলেন, ‘খুনি যত বড় শক্তিই হোক, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আপনাদের প্রতি দায়িত্ব দিচ্ছি, যদি কেউ বিশৃঙ্খলা করতে আসে, তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন।’
যতক্ষণ পর্যন্ত ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হবে রাজপথ না ছাড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘ইনসাফ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকবো। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এই বাংলার জমিনেই হবে। এই বিচার শাহবাগ থেকেই আদায় হবে।’
এবি/