দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারাদেশ। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছে বিক্ষুব্ধরা। এর আগে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর রাতে মুহূর্তেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে রাজধানীর শাহবাগ। রাতভর চলা বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহবাগ। জুমার নামাজ শেষে আশপাশ থেকে আরও লোকজন সেখানে যোগ দিচ্ছেন। জমায়েত থেকে হাদির নামে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। ওসমান হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে শায়িত করার দাবিও উঠেছে। হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত শাহবাগ না ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করছে খেলাফত ছাত্র মজলিস। জুমার নামাজ শেষে ‘শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দ্রুত বিচার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
এসময় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ‘আমি কে তুমি কে, হাদি, হাদি,’ ‘আমার সোনার বাংলায় খুনি লীগের ঠাঁই নাই’, ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না,’ ‘আমরা সবাই হাদি হবো যুগে যুগে লড়ে যাবো’ স্লোগান দিতে থাকেন।
রাজধানী ছাড়াও হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে জেলায় জেলায়।
ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে নড়াইলে বিক্ষোভ হয়েছে। বাদ জুমা শহরের পুরাতন বাস টার্মিনালে নড়াইলের সর্বস্তরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা এ বিক্ষোভ করে।
এর আগে এক সমাবেশে বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ছাত্র জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে, আর এজন্য সরকারকে দায়ী থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
হাদি মৃত্যুতে জয়পুরহাটে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। দুপুরে নামাজের পর জেলা শহরের শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জিরো পয়েন্ট কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিসহ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। জুমার নামাজ শেষে শহরের জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
এ সময় মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে। একই সময় বিপ্লবী ছাত্র-জনতার ব্যানারে অপর একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ থেকে বের হয়। মিছিল দুটি শহরের কান্দিপাড়া, টিএ রোড, ফারুকী পার্ক সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কাউতলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
হাদির মৃত্যুতে প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ হয়েছে। শুক্রবার চান্দনা চৌরাস্তা, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ছাত্র-জনতা। সকালে চান্দনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাংশ অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শত শত ছাত্র-জনতা। একই দাবিতে জুমার নামাজের পর ফের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এছাড়া শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ছাত্র-জনতা।
ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ ছাত্র-জনতা। এতে মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর ২টা থেকে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশে মহাসড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
জুমার নামাজ শেষে শহরের জহিরিয়া মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি শহীদ শহিদুল্লা সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে অবরোধে অংশ নেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
চট্টগ্রামের পটিয়াতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল।
হাদি হত্যার ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুরে কফিন মিছিল করেছে ছাত্র-জনতা। বাদ জুমা শহরের চকবাজার মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উত্তর তেমুহনী এসে কফিন রেখে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা, তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মিছিল চলাকালে ‘ হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা’সহ নানা স্লোগান দেন ছাত্র-জনতা।
হাদি হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানিকগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিপ্লবী মঞ্চ। জুমার নামাজের পর শহরের রফিক চত্বরে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনায় গায়েবি জানাজা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা হত্যার বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কিশোরগঞ্জেও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিপ্লবী ছাত্রজনতা। বিক্ষোভ চলাকালে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো শহর। বাদ জুমা শহরের ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে তা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রজনতা স্লোগানের মাধ্যমে হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
‘আমার দেশ তোমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘আমি কে? তুমি কে? হাদি, হাদি’, এই স্লোগানে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাব চত্বরে কুয়াকাটা স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্সের ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি কুয়াকাটা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবদকদের পাঠানো তথ্য ও প্রতিবেদন থেকে তৈরি।
এবি/